Sunday, December 11, 2022

কাতার quips: Croatia vs Brazil

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে হেরে এবারের মতো ছিটকে যাওয়াতে মনটা বেশ খারাপ হয়ে আছে!
খেলার ব্যাপারে লেখা থেকে কিছুদিনের জন্য হলেও এবার তাই সাময়িক বিরতি!

Friday, December 9, 2022

কাতার quips: Morocco vs Spain

জয়টা মনে হলো স্পেনের হাত থেকে ছিনিয়ে নিলো মরক্কোর একরোখারা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একমাত্র অঘটনটা কিন্তু তারাই ঘটালো। তবে অঘটন বলি কি করে! খেলায় অঘটন তো বলা হয় যখন কোনো দল তাদের থেকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়! কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে মরক্কোর খেলা দেখে স্পেনের তুলনায় মরক্কোকে কি কিছু কম শক্তিশালী মনে হচ্ছিল? গোটা ম্যাচটা জুড়ে যা ডিফেন্স দেখালো ও তার সাথে opportunistic aggression, দলটাকে হালকা করে দেখলে পরে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব! স্পেনের বিরুদ্ধে এই ডিফেন্স দেখে আমি তো মুগ্ধ! ইতালির ডিফেন্স বিখ্যাত, কিন্তু এবার তাদের সেরা রক্ষনের শিরোপা না হাতছাড়া হয়ে যায়! অবশ্য মরক্কোকে আমার এই দিন বারেবারে স্পেনের মতো লাগছিল, গুলিয়ে যাচ্ছিল। তার কারণ হলো তাদের জামাগুলোর রঙ লালচে। স্পেনের খেলছে আর লাল জামায় সজ্জিত প্রতিপক্ষ - হয় নাকি!
যাইহোক, মরক্কোর যে ভুলটা শোধরানো দরকার, তা হলো গোলের কাছে তাদের পায়ের জোর হারিয়ে ফেলার অভ্যাসটা। যেহেতু এই জোরটা মনের থেকে আসবে, তাই বিপক্ষের কাছে মানসিক যুদ্ধটাতে তাদের জিততে হবে।
তবে স্পেনকে যে তারা চাপে রাখতে চলেছে, তা খেলাটার শুরুর আগে থেকেই মনে হচ্ছিল তাদের দেখে। তিনটে ব্যাপার চোখে পড়লো আলাদা করে।
প্রথমটা হলো, মরক্কোর জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন হাকিম জাইজির মুখটা চোখ বন্ধ অবস্থাতেও কোনো দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। দ্বিতীয় ব্যাপারটা অম্রাবতের পায়ের চোট নিয়ে রক্ষণ সামলানোর জেদ। আর তৃতীয়টা হলো তাদের গোলকিপার বনো। কোনো কঠিন কাজকে খুব সহজে করে ফেললে, ব্যাপারটাকে হাসতে হাসতে করে ফেলল বলে। বনোকে দেখে ঠিক এটাই মনে হচ্ছিল। এরকম সদাহাস্যময় কোনো গোলরক্ষক আগে দেখেছি বলে তো মনে পড়েনা। জোরদার হতে চলেছে পরের ম্যাচ, দেখি কি করে হাসিখুশি অথচ কখনো জেদি দলটা!

Wednesday, December 7, 2022

কাতার quips: Brazil vs South Korea

এ কোন ব্রাজিলকে দেখলাম? কিরকম যেন বদলে গেছে দলটা। ভুল বললাম! দলটা সেই পুরনো ব্রাজিলের চেনা ছন্দে মাতিয়ে দিলো। বদলটা মাঝে হয়ে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। আবার তারা তাদের জাদুসমেত হাজির। কোথায় সেই গোলের কাছে হারিয়ে যাওয়া ব্রাজিল দল! এবার তো গোলের গন্ধ পেলেই বল গোলে ঢুকছে। দলটাকে আবার করে চনমনে লাগছে বাচ্ছাদের মতো। নেইমার এফেক্ট তো রয়েছেই, দলে আবার ঢুকে পড়ে খেলার রঙটাই বদলে দিল। তবে দলটা বেশ কিছু ব্যাপারে বাকিদের থেকে অবশ্যই আলাদা। নিজেরা নাচছে, বিপক্ষকে নাচাচ্ছে, তারপর গোল দিয়ে দেখলাম কোচকে নিয়ে নাচছে। নাচ করতে চাইছে না খেলতে, বোঝা মুশকিল!
তবে কোরিয়া খারাপ খেলা দেখালো না ব্রাজিল ভালো, তা পরের ম্যাচগুলোর আগে বলাটা ঠিক হবে না। যতই হোক, পরের ম্যাচগুলিতে প্রতিপক্ষরা অধিকাংশই কোনো না কোনো বছরে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট বা বিশ্বকাপজয়ী!
তবে ম্যাচের প্রতিটি গোল - ব্রাজিলের চারটে আর দক্ষিন কোরিয়ার একটা গোল - হলো মনজুড়ানো। ভিনিসিয়াসের শান্ত কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত গোল, নেইমারের পেনাল্টির সম্মোহনী ক্ষমতা, রিচার্লিসনের শিল্প, পাকেতার সুযোগসন্ধানী টোকা, পাইকের দূরপাল্লার চকিত গোল - প্রত্যেকটা অনবদ্য।
তবে এলিসন দেখালো গোল আটকানোতেও কি জাদু দেখানো যায়। ব্রাজিলের এই গোলকিপারটি বেশ অন্য ধরনের। গোল ছেড়ে উইং থেকে বলের সাথে গল্প করতে ছুটছে, হামেশাই মাঝমাঠ খালি দেখলে উঠে আসছে বল ধরতে। কিন্তু যেই দেখছে বল বিপক্ষের কাছে, তার সতর্ক পাহারায় গোল প্রায় প্রতিবার আটকে যাচ্ছে। কখনো লাফিয়ে তো কখনো যেন উড়ে, আবার কোনোবার নিজের শরীরকেই বল ও গোলের মাঝের বাধা হিসেবে ব্যবহার করে গোল আগলানোর কি অদম্য তাগিদ! প্রায় প্রতিবার তার জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষ।
দেখা যাক পরবর্তী খেলাতেও আবার ব্রাজিল কোন জাদু দেখায়!

Tuesday, December 6, 2022

কাতার quips: Croatia vs Japan

খেলাটা ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান হচ্ছে না জাপান-ক্রোয়েশিয়া হচ্ছিল বোঝা যাচ্ছিল না! কি যে খেলছে, কেন যে খেলছে, কেউ জানে না! বল থ্রো করছে, লাইনের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, কর্নার কিকের জোরালো শটের চোটে বল অন্য কর্নার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে! ওপেন নেট পেয়ে গোল করতে পারছে না আর লোকজন লং শট যা নিচ্ছে মনে হচ্ছে বল কাতার থেকে এই দুই দেশের মধ্যে কোথাও না ল্যান্ড করে আর এই চরম টেনশনের মুহুর্তে জাপানী কোচের ছোট খাতাটায় নোট নেওয়া দেখে মনে হলো ভাইপোর বিয়ের বউভাতে প্লেট হিসেব করছে। কি বোরিং খেলা যে হলো, বলার নয়! ভাবলাম, ব্রাজিলের খেলা দেখার আগে ঘুমিয়ে নেব, কিন্তু এরা করতে দিলে তো! হাফটাইমের ঠিক আগে এক দল গোল দিল, হাফটাইম হয়ে খেলা শুরু হতেই আরেক দল ফেরত দিয়ে দিল! ব্যস, আবার অচলাবস্থা, যদিও গোলদুটো খেলার কয়েকটা মুহুর্ত জমিয়ে দিয়েছিল।
তবে খেললো বটে গোলকীপারদুজন, তারাই এই ম্যাচের ঠিকঠাক হিরো!
অতিরিক্ত সময় ধরে খেলা চলতে থাকলেও, এই দুটো দলের মধ্যে কে যে বিরক্তিতে অন্যকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল কে বুঝবে! তবে জাপান টাইব্রেকারে যে কি করে এই আজব ব্যাপার দেখালো কে জানে? চারটের মধ্যে একটা গোল দিতে পারলো! এরকম করলে এদের বাড়ি ফিরে যাওয়াই উচিৎ। সঙ্গে ক্রোয়েশিয়াকেও নিয়ে যেতে পারলে আনন্দ পেতাম, কিন্তু তা তো হওয়ার জো নেই। তবে ক্রোয়েশিয়া এরকম খেলা চালিয়ে গেলে চাইব খুব তাড়াতাড়ি তাদেরও যেন নকআউট হয়ে যায়! যে কোনো খেলা জেতার চেয়ে ফুটবলের জেতাটা বেশি জরুরি!

Saturday, December 3, 2022

কাতার quips: Brazil vs Cameroon

ক্যামেরুন গোল করেছে, গোল আটকেছে, তাই জিতেছে! ব্রাজিল গোল করেনি, আটকাতেও পারেনি, তাই হেরেছে! ব্যাস, এই হলো total summary! তবে গোল যে একটাই খেলো, এটাই অনেক! এডারসন না কয়েকটা আটকালে ব্যাপারটা আরো খারাপ হতো। ফলাফলটা অবাক করে দেওয়ার মতো তেমন কিছু নয় অবশ্য। এটা হওয়ারই ছিল, দেখার ছিল কবে নাগাদ হয়! এই ব্রাজিল team নাকি বিশ্বকাপ জিতবে.... তাহলেই হয়েছে! এরকম কিছু ঘটলে না দেখা যায় এদের সমর্থকেরাই চমকে উল্টে গেছে শকের চোটে! মানছি, আগের দুটো ম্যাচের তৈরী প্লেয়াররা অধিকাংশই খেলেনি, কিন্তু তা বলে এত সুযোগ নষ্ট হবে? বিপক্ষের পা থেকে বলের দখল নিচ্ছে তাড়াতাড়ি, নিজেদের মধ্যে স্বাভাবিক বোঝাপড়ায় দারুন সব মুভমেণ্ট তৈরি করছে, বিপক্ষের পেনাল্টি সীমানার বক্সে ঢুকে পড়ছে অতর্কিতে। কিন্তু ব্যস, তারপর কি যে হচ্ছে কে জানে, ওই পর্যন্ত গিয়ে যেন কিরকম তারা কুম্ভমেলায় হারিয়ে যাচ্ছে। এক মার্টিনেল্লি বাদে কাউকে গোলে বল রাখতে দেখলাম না। শুধু ওর জন্যই খারাপ লাগছিল, প্রচুর চেষ্টা করেছিল কিন্তু প্রতিবার বিফল হলো। Unfortunate, but hopefully he will have his day sometime in the future! বাকিরা তো শুধু ছড়ানোর প্রতিযোগিতা করছিল। ব্রুনো গিমেরেশের কথাই ধরা যাক না হয়। তার অবস্থা হলো রথের মেলায় গিয়ে রথটাই দেখতে না পাওয়ার মতো। ম্যাচের দিনে তাকে বোধহয় বল সমেত খালি গোলপোস্টের সামনে ছেড়ে দিলেও গোল করতে অক্ষম হতো। এডারসন সেই তুলনায় গোলটা ঠিকঠাক রক্ষা করছিল। যে গোলটা খেয়েছে সেটা তার ভুলের তুলনায় বিপক্ষের কৃতিত্ব বেশি দাবী করবে। গোলপার্থক্য বাড়তে পারতো তার দারুন কিছু সেভ না থাকলে।

অপরদিকে ক্যামেরুন ফাটিয়ে দিলো পুরো। যেদিন শুনেছি সেনেগাল এবার আফ্রিকাসেরা হয়েছে আর মিশরের মতো দল উঠতে পারেনি, কিরকম তখন থেকেই মনে হয়েছিল যে আফ্রিকার দলগুলো এবার যথেষ্ট বেগ দেবে। ব্রাজিল বোধহয় ধরতে পারেনি ব্যাপারটা। আমি ভেবেছিলাম ক্যামেরুন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। ভুল ভেবেছিলাম। পুরো খেলাটা তো অসাধারন খেললোই, বরং ঠিক করে দেখলে বলতেই হবে যে দ্বিতীয় হাফে ব্রাজিলকে সম্পুর্ণ ব্যাকফূটে রাখলো। চকিত আক্রমণ থেকে আবুবকরের হেড হয়ে যে গোলটা হলো, তা যেকোনো গোলকীপারকে বোকা বানিয়ে দেবে। এ তো গেলো গোল করার কথা। অপর প্রান্তে সিংহের মতো নিজের দেশের গোলটা প্রাণ দিয়ে আটকালেন যিনি সারা খেলাটা জুড়ে, সেই এপাসিকে সেলাম। বারবার দুরন্ত সেভ করতে করতে ও গোলের ভিতরে মাছি না গলতে দেওয়ার মতো পাহারা দিয়ে তিনি ব্রাজিলের মনোবল ভেঙে দিচ্ছিলেন। খেলাটাতে অসাধারন কিছু মুহুর্ত আনার জন্য পুরো ক্যামেরুন দলটাকে কুর্নিশ জানাতেই হবে। They played just awesome football.

সৌন্দর্য ও গতি মিশিয়ে যে খেলাটা উপহার দিলো দলদুটো, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই তাদের। তবে তৃতীয় আরেকজনের কথা এবার তবে না বললেই নয় যিনি খেলাটাকে অন্য মাত্রা দিচ্ছিলেন, ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল এলফ্যাত। খেলোয়াড়দের পিঠ চাপড়াতে চাপড়াতে, ঘাড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েও হাসিমুখে যে লাল কার্ড (regulation penalty) দেখানো যায় খেলার আমেজে পরিবর্তন না এনে, তা এই খেলাটা না দেখলে হয়তো কোনোদিন বুঝতে পারতাম না। যেমন বড় মাপের দলের খেলা, তেমন দক্ষতাই দেখাল যেন তাদের খেলার পরিচালক!

Wednesday, November 30, 2022

কাতার quips: Brazil vs Switzerland

ব্রাজিল জিতেছে, but, বলতেই হবে, কোনোমতে। কি যে হয়েছিল কে জানে। কি দুর্বল পাস দিচ্ছিল নিজেদের মধ্যে শুরুর দিকে। বোধহয় ঠিকঠাক খাচ্ছে না। তাই হবে। নাহলে গোল খাওয়ার এত অদম্য আগ্রহ কি করে হয়? গোলকিপার নিজের খেয়ালে গোল ছেড়ে মাঝমাঠে উঠে আসছে বল ধরতে, বিপক্ষের কারুকে পেলে নিজেদের বক্সে কাটাকুটি খেলছে, দলের বাকিরাও নিজেদের গোলের দিকেই বল টানতে থাকে বারবার - গোল খাওয়ার উদগ্র বাসনা না থাকলে কি এরকম হয়?
তারপর দ্বিতীয়ার্ধে দেখি অন্য বিপদ! এবার কিছু খেয়ে নেমেছে মনে হলো। খেলার গতি বাড়লো আর পায়ের জোর যেন তাকেও ছাপিয়ে গেলো। যাকে উদ্দেশ্য করে পাস দিতে চাইছে, তাকে ছাড়িয়ে বল অন্য কারুর দিকে চলে যাচ্ছে। যে গোলটা অফসাইডের কারণে বাতিল হলো, সেটা হলো তো এই কারণে। যাকে বলটা পাস দিতে চাইল, তার ও তার পরেরজনের বাড়ানো পা ছাড়িয়ে বল চলে গেল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছে। ফসকে যাওয়া বল নিয়ে গোলটা তিনি করলেন বটে, তবে গোলটা বাতিল হয়ে খেলার সম্মানটা রক্ষা হলো।
যেরকম খেলছে তাতে সুইসরা হয়তো কিছু করতে পারলোনা, কিন্তু বড় দলগুলো তো এরকম করলে এদের সাথে ছেলেখেলা করবে। ক্যাসেমিরোর গোলটা অসাধারন লেগেছে তবে দলগতভাবে ব্রাজিল বেশ ম্রিয়মান ছিল। নেইমার না থাকার দরুন মনে হয় দলের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। নেইমারকে যতই নাটুকে বলি না কেন, মাঠজুড়ে খেলে আক্রমণটাকে সাজানোর কারিগর কিন্তু তাকেই বলতে হবে। থিয়াগো সিলভা আর নেইমার মাঠজুড়ে খেলে সার্বিয়াকে বেসামাল করে দিয়েছিল। কিন্তু এবারে বোধহয় থিয়াগো সিলভাকে বাধ্য হয়ে রক্ষণটাই শুধু সামলাতে হলো। তাই গোলের সুযোগ করে দেওয়ার লোকও কমে গেল। নিশ্চয় চাইব নেইমার সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি মাঠে নামুক, কিন্তু তা বলে ব্রাজিল কি একজনের ভরসায় খেলবে নাকি! পরের খেলাগুলোয় পুরো দলটাকে স্বমহিমায় খেলতে দেখার আশা রাখব!

Sunday, November 27, 2022

কাতার quips: England vs USA

ইংল্যাণ্ড দলে হ্যারি কেন খেলে। কিন্তু বিশ্বকাপে সেদিন মার্কিনি ছোকরাদের সামনে তাদের হাতে হারিকেন হয়ে গেছিল আরেকটু হলে! গোলগুলোই যা হলো না তাদের বিপক্ষে। প্রথম কয়েকটা মিনিট লড়াইটা হয়েছিল সমানে সমানে। তারপর যে কাণ্ডটা মার্কিনিরা করল তাতে সাউথগেটের লজ্জায় পড়ার কথা। ইংল্যাণ্ড শুনেছি হেভিওয়েট দল হিসেবে খেলছে। তো ফেদারওয়েটের কাছে এই অবস্থা হলে মুশকিল আছে পরে। জনতা না তাদের কাছে জানতে চায় হ্যারি থাকতেও দলটা কেন খারাপ না খেলেও ছড়ালো।

But for that the credit goes to the young USA team. Their energy was really fascinating. পরের দিকে তারা চাপে রেখে দিয়েছিল বিপক্ষকে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের ঝড়ে। সত্যি বলতে কি, ইংল্যাণ্ডকে কার্যত দিশেহারা করে দিচ্ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে। Hope to see these guys keep up their spirit for future, cheers and best of luck!

Saturday, November 26, 2022

কাতার quips: Serbia vs Brazil

আহা, কি খেলা দেখলাম!

খেলা না বলে নৃত্যনাট্য বলা উচিৎ!

এ যেন কোনো অসামান্য ব্যালে, ballet on grass..... Brazilian ballet!

ব্রাজিলের খেলা মানেই এক অন্য অনুভুতি। মনে হয় যেন নিজের দল খেলছে। দুরুদুরু বুকে খেলাটা দেখতে হয়! যদি goal খেয়ে যায় তারা! সেই মাঝরাতের সাত গোলের দুঃস্বপ্ন তো আছেই, তার উপর খেলা দেখে মনে হয় এরা কি মানুষ না অন্য কিছু! অন্য কোনো দল নিজেদের বক্সে বিপক্ষের উপস্থিতিতে বল clear না করে চালাচালি করে বলে তো মনে হয় না। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে না বল নিয়ে সকালে বন্ধুদের সাথে চ্যাংড়ামো করতে বেরিয়েছে বোঝা যায় না। এরা মনে হয় একটুও ভাবে না সমর্থকদের মনে কি চলছে।

খেলোয়াড়দের ভয়ডর কম থাকতেই পারে, কিন্তু আমরা? আমাদের মতো সাধারন মানুষদের পক্ষে কি এত tension নেওয়া যায়? Pressure বেড়ে যায়, নার্ভ fail হয়ে যায়, heart fail হয়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়, চাই কি চাপে নিম্নচাপ পর্যন্ত পেয়ে যেতে পারে! কিন্তু ব্রাজিল দলকে কথাটা বোঝাবে কে? তারা তো দেখি বল পেলেই সাম্বার তালে নাচতে থাকে আর বিপক্ষের দলকেও যেন নাচাতে থাকে। খেলার শুরুতে যেই সেণ্টার হয়ে বল ব্রাজিল পাবে, তাকে ব্যাকপাসের ঠেলায় পিছিয়ে নিজেদের গোলকিপার পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এই অবাক কাণ্ড দেখে যখন সমর্থকরা এদের মুণ্ডপাত আর নিজেদের শরীরে অস্বস্তি বোধ করবে আর বিপক্ষ মনে করবে এ কি অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে - বল তো দেখছি গোলের কাছে প্রায় চলেই এসেছে, এবার হালকা টোকা মারা যা বাকি, ঠিক তখনই শুরু হবে আসল মজা। নাচের ছন্দ বদলে গিয়ে বল বিপক্ষের নাকের ডগা দিয়ে তাদের গোলের কাছে ভাসতে ভাসতে চলে যাবে। তারপর কি যে হবে কেউ জানে না অবশ্য! রাফিনিয়ার মতো অতি ভদ্রলোক কেউ থাকলে বলটা গোলকিপারকেই হয়তো দিয়ে দেবে ফেরত। তবে বলটা যদি কোনোরকমে পড়ে যায় রিচার্লিসনের মতো শিল্পীর সামনে, তাহলে তাকে দেখা যেতেই পারে গোলের জালে জড়িয়ে যেতে।

তবে প্রতিবার যে এরকম হবেই তার কোনো স্থিরতা নেই! কখনো নিজেরাই গোল খেয়ে ফেলবে। তবে খেলাটা উপভোগ করবে নিজেদের মতো করে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে খেলোয়াড়দের উচ্চতা নিয়ে যেটা সার্বিয়ার সাথে খেলাটায় চোখে পড়ল। উড়ে আসা বলের দখল নিতে যে উচ্চতার লাফ দরকার হলো, হেডের দিক দিয়ে চাপের হতে পারে।

তবে নেইমার নাটকটা কম করলে খুশি হবো। প্রতিবার নেইমারকে দেখি যেই বিপক্ষের বক্সে ঢুকতে পারবে, পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে যে করে হোক। এবার দেখলাম যে ব্যাপারটা মাঠ জুড়ে করছে। এটা রাখাল বালকের বাঘ পড়েছে মতো না হয়ে যায়। অবশ্য স্বীকার করতেই হবে যে নেই নেই করেও নেইমার জুনিয়রকে সুযোগ পেলে আঘাত মারতে বাকি রাখেনা বিপক্ষের লোকজন। বোধহয় নামেতেই যে 'মার' শব্দটা রয়েছে, তার কারণে ঘটে আবার নামের মধ্যে 'নেই' থাকাটা প্রেরণা দেয় foul না হলেও পড়ে যাওয়ার!

Friday, November 25, 2022

কাতার quips: Uruguay vs South Korea

নীল বনাম লাল দারুন উপভোগ করলাম। লাল মানে দক্ষিন কোরিয়ার জামার রঙ, নীল হলো উরুগুয়ে দলের জামার রঙ, সাথে হলুদ জামা পরিহিত কোরিয়ার গোলকিপার আর সবুজ রঙের জামায় উরুগুয়ের গোলকিপার, খেলার শুরু থেকেই রঙিন আবহাওয়া। খেলাটা তাই কি এত রঙিন লাগলো?
নুনেজের চকিতে খেলার গতি বাড়ানোর চমক, সন হিয়ুং মিনের পায়ের শিল্প, গোডিনের গোলের সন্ধানে মাঠের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ওঠানামা, কিম সিয়ুং গুয়ের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গোলরক্ষণ, হিমেনেজের (নামের English বানান Gimenez হলেও উচ্চারন করছে হিমেনেজ) সাহসী ট্যাকল পেনাল্টি বক্সের মধ্যে, এর থেকে রঙিন আর কি হবে! হোক না খেলার ফল গোলশূন্য ড্র, যাক না হোয়াঙের পা থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বল পোস্টের উপর দিয়ে, পড়ুক না গোডিনের হেড সাইডবারে আছড়ে, খেলাটা তো হলো খেলার মতো! কাউন্টার অ্যাটাকের গতিময় ফুটবল উপহার দিলো দুই মহাদেশের দুই দল।
সুয়ারেজ বরং তুলনায় ম্রিয়মান থাকলো। যে লোকটাকে দেখলে তার আশপাশের লোকেদের হাত automatically তাদের নিজেদের কানে চলে যাওয়ার কথা, তার নিজের খেলাটাই আটকে দিয়ে যেন কানটাই তার কেটে নেওয়া হল!

Monday, November 21, 2022

কাতার quips: Qatar vs Ecuador

বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীর দল এই মুহুর্তে তাকিয়ে আছে কাতারের দিকে। আমার তো মনে হয় ক্রীড়াপ্রেমী মাত্রে ফুটবলপ্রেমী হতেই হবে (অনেকটা যেন alkali হলেই base হতে হবের মতো!)! কেন? কে জানে, maybe because football is indeed the beautiful game! যাইহোক, পৃথিবীর সবার চোখ যখন কাতারের দিকে, কাতারের গোলরক্ষকের নজর কোন দিকে ছিল কে জানে। কথাটা বলতে হচ্ছে কারণ ভদ্রলোক বিশ্বকাপের প্রথম খেলার প্রথম হাফে বলের গতিপথ সম্বন্ধে কোনোরকমের ভাবনা ছাড়াই যে দাপাদাপিটা করলেন পেনাল্টি বক্সের মধ্যে, তাতে আরো কয়েকটা গোল হলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু ঘটতো না। অভ্যেসটা বদলে ফেলা দরকার, না হলে গোল রক্ষণ তো হবেই না, ভক্ষণ বেশি হয়ে বদহজম হয়ে যাবে।

অন্যদিকে ইকুয়েডর লাতিন আমেরিকার জাদু হালকা করে বুলিয়ে দিল। তিনটে গোল করল, প্রথমটা অফসাইড হয়ে বাতিল হলো বটে আইন অনুযায়ী, কিন্তু ভলি ও হেডের সমন্বয়ে তৈরি গতিময় মুহুর্তটা সেরা আমার কাছে। ভ্যালেন্সিয়ার করা গোলদুটি ইকুয়েডরকে খেলাটা জিতিয়ে দিলো কিন্তু তাদের জাতটা বোধহয় বল নিয়ে ইন্টারসেপশনগুলো চেনালো। তবে কাতার বেশ সহজ প্রতিপক্ষ। সেনেগাল ও নেদারল্যান্ডস পুরো অন্য জিনিস। Hope Ecuador matches their zeal equally well.

কাতারের সমর্থক যারা পুরোটা থাকলো, দেখলাম হাততালি দিয়ে ও গলা ফাটিয়ে দলের পাশে থাকলো। এরকম সমর্থক কিন্তু পাওয়াটা ভার। Hope the Qatar team comes back in style. Viva la football

Sunday, October 16, 2022

Murder by the Sea: হত্যা আর পুরী!

বাঙালী চিত্রপরিচালকদের মধ্যে অঞ্জন দত্তের পরিচালিত ছায়াছবিগুলিকে অসাধারন কেউ বলবে না বোধহয়। তবে সাধারন বলার পরেও তার মধ্যে এমন কিছু ব্যাপার থাকে যেগুলো আমার চোখে ব্যক্তিগতভাবে আকর্ষণীয় লাগে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্থান নির্বাচন। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও কলকাতার গলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে শুধুমাত্র মানুষজন আর তাদের আবেগ ও অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়েও যে ছায়াছবি নির্মাণ করা সম্ভব, বোধহয় খুব বেশি পরিচালক ভাবতেও পারেন না। গল্পের স্থানগুলোর ভীষনভাবে বাঙালী পরিবেশ আরও বেশি আকর্ষন করে ও খুব অন্তরঙ্গ করে দেয় ঘটনাগুলোর সাথে। এতদিন তাই কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের মানুষজনের সহজাত ও মাঝেমধ্যে অতিমাত্রায় অমার্জিত বাঙালীত্বের স্বাদ দিব্যি লাগছিল। সমুদ্রসৈকতের স্বাদটাও তার সাথে যোগ করে এবার যুক্ত হলো পুরী।

সঠিকভাবে দেখলে পুরীকে ঊড়িষ্যার শহর বলা উচিৎ, কিন্তু সমুদ্রের ধারে বঙ্গোপসাগরের এই পাড়টি ভীষনভাবে বাঙালীদের আপনার। জায়গাটি ঘিরে রহস্যের জাল বোনার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ। রহস্যের শুরুটাও সমুদ্রের পাড়ে এক গুলিবিদ্ধ লাশ থেকে। জলেতে ভিজে থাকা মৃত ব্যক্তিটিকে সাগর সৈকতের বালির মধ্যে আচমকা আবিষ্কার করেন স্নায়বিক রোগে পর্যুদস্ত কিন্তু রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনীর এক জনপ্রিয় লেখিকা। আশপাশের কিছু ঘটনা ও চরিত্র লেখিকাকে আরও সন্দিহান করে তোলে। হত্যার কারনটা জানতে তিনি হয়ে ওঠেন বদ্ধপরিকর। মনে হয়, এতদিন তিনি যা কল্পনা করে লিখতেন, ঠিক যেন সেরকম কাহিনীর কোনো জায়গায় তিনি ঢুকে পড়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি হয় পড়েন কৌতুহলী। তার মধ্যে যোগ হয় অতীতের কিছু ফেলে আসা ঘটনার রেশ। নিজের অজান্তেই তিনি জড়িয়ে পড়েন অন্ধকার এক রহস্যের পরিবেশে। অতীত ও বর্তমান এক হয়ে তৈরি হয় এক জটিল সমস্যা যা অপরিচিতকে যেমন আপন করে তোলে, চেনা মানুষের লুকোনো কিছু অজানা ঘটনা বেরিয়ে আসে। আচমকা আড়াল থেকে আসে হামলা। এতটা হয়ে ঠিকই ছিল। অনন্যা চ্যাটার্জীর অভিনয়, সুপ্রভাত দাসের পার্শ্বচরিত্রে সাবলীল উপস্থিতি, অঞ্জন দত্তের কাহিনী রহস্যের জালটা গুছিয়ে বুনেছিল। কিন্তু বাদ সাধল সংলাপের আধিক্য এবং এক প্রসঙ্গ বারবার অবতরণ করার প্রবনতা যে অভ্যেসটা পরিচালক বোধহয় কিছুতেই ছাড়তে চাইছেন না। এই জায়গাটা যদি একটু খেয়াল রাখা যায়, পরবর্তী পরিবেশনা অবশ্যই অনেক বেশি রোমাঞ্চকর হবে।

পুরোটা দেখে তবে একটা কথাই বলব যে সিরিজটির বড় প্রাপ্তি হচ্ছে পুরী। অঞ্জন দত্তের ভিন্নমাত্রার ভাবনায় ও প্রভাতেন্দু মণ্ডলের চিত্রগ্রহণে রাতের পুরী, সমুদ্রের দিক থেকে শহরের ড্রোন শট, এক অদেখা সৌন্দর্য উপহার দিয়েছে। নীল দত্তের পরিচালনায় আবহ সঙ্গীত আরেকটি বড় প্রাপ্তি। এই ব্যাপারটায় অঞ্জন দত্তের পরিচালনা হলে আমার কাছে বরাবরের আকর্ষন থাকে। তাই সিরিজটি দেখুন। তবে রহস্যের জট থেকে আবহের রোমাঞ্চ নিশ্চিতভাবে বেশি মজা দেবে।

Tuesday, August 23, 2022

Beware of The Terminal List: The Blood of the Brotherhood

If you manage to bear the 1st 2 episodes, which are actually a bit boring, you will be all set for a thrill ride of vengeance and violence. Added to this is the sleuthing of the justice seekers that keeps the thrill suspenseful while inherently being chillingly fascinating. When the powerful betrays the brave, then terror strikes the deceivers. Based on the book having the same title in the book series by Jack Carr, the narrative starts with a horrifying ambush of almost the entire brotherhood of a battalion of Navy SEALs, led to their doom by false Intelligence, leaving only the fortunates standing. James Reece, the surviving commander of the troop returns home, traumatised. But his ordeal was yet to be over as he starts losing memory and faces sudden assassination attempts. A conflicting scenario presents with one of the other surviving members getting killed at a time when Reece remembers him to be present elsewhere. If that was not all, Reece loses his loved ones, assassinated right at their home.
Thus begins the journey of vengeance with Reece starting on a mission of searching and killing the perpetrators of these heinous incidents. Sinister revelations await that steadily unfurls the chilling motive behind the killings and the twisted villains responsible for the criminal activities. But as Reece tries hammering in the justice his own way, law retaliates. A cat and mouse chase ensues with Reece being hunted by the force of law, backed by specialists in armed combat. Thus the modern day John Rambo aka James Reece (interestingly, both having initials J R) starts on a mission of his own of drawing out the last of the evil bloods, while escaping the enforcers of law that prevents the same. Support comes in the form of Katie Buranek, the determined journalist, set on the mission to unearth the truth behind the doom of the brotherhood and helps unmask secrets, both scary and unabashedly cruel. CIA operative and former SEAL teammate, Ben Edwards chips in with vital intelligence and apparently assists the mission by stalking the targets with precision and preying on them with stealth and surprise.
Chris Pratt stars as James Reece, trying to play the naive soldier turned focused mercenary earnestly yet falling short of the requirement at times. But compensating classically by their acting, Constance Wu as Katie Buranek surely tops the chart and Taylor Kitsch as Ben Edwards follows closely by playing the consistently stubborn and religiously careful yet precariously casual support characters respectively.
A truly entertaining series with 8 part opening season, as created by David Digilio, will surely thrill the audience right till the last in the list of vengeance lasts.

Saturday, July 30, 2022

একেই বলে ফেলুদা: ফেলুদা ফেরত ও ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি

কিছু গল্প আছে যা কখনো পুরনো হয় না। কিছু ছায়াছবি আছে যা বারবার দেখতে ইচ্ছে করে। কিছু মানুষের কথা মনে পড়লেই মনটা ভালো হয়ে যায়। কিছু চরিত্রের কথা মনে পড়লে আবার মনটা সজীব হয়ে যায়। এগুলোর উদাহরণ ক্রমানুসারে দিতে গেলে বলব
- ফেলুদার গল্প
- সোনার কেল্লা
- সত্যজিৎ রায় নামক মানুষটি
- জটায়ু ছদ্মনামের আড়ালে থাকা চরিত্রটি
তাই যেই শুনলাম যে ফেলুদা গোয়েন্দাগিরি শুরু করতে আবার ফেরত আসছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার নতুনভাবে রুপোলী আত্মপ্রকাশ দেখতে তৈরি হলাম। গল্পটা নিয়ে মাথাব্যাথা আলাদা করে কখনই কিছু ছিলোনা, পরিচিত কাহিনীর কল্পনার জগত থেকে আসা ফেলুদাকে ছবির পর্দায় যে কিছুক্ষণের জন্য হলেও রক্তমাংসে দেখতে পাবো, ভাবলেই অন্যরকমের আবেশ তৈরি হয় মনের মধ্যে। তারপর তো সাথে আছে তোপসে আর লালমোহনবাবু। সত্যি বলতে কি ফেলুদা নিয়ে ছায়াছবি করলে আকর্ষণটা বেশি থাকে কে অভিনয়টা করছে তার উপর। গল্প তো জানা, কিন্তু গল্পটাকে কিভাবে দেখানো হচ্ছে সেটার উপরই পুরো গুরুত্বটা নির্ভর করে। ব্যাপারটা পুরো বিয়েবাড়িতে নেমন্তন্নের মতো। জানি যে মাংস হবেই কিন্তু সেটা রোগান জোশ হিসেবে কি রেজালারূপে কি তন্দুরের আড়ালে পেটে প্রবেশ করছে, তার উপরেই পুরো পরিবেশনের সার্থকতা নির্ভর করছে। সত্যজিত, সন্তোষ দত্ত, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ব্যঞ্জন আমাদের যে তুলনাহীন শিল্পের জাদুতে মাতিয়ে রেখেছিলেন, তার আশা অবশ্য করি না, কিন্তু ফেলুদার উপন্যাস হচ্ছে শুনলেই মনটা কেমন করে ওঠে। মনে হয় এবার বুঝি আবার সেই জাদুটা ফিরে আসবে। ঘটনা হচ্ছে, এবার কিন্তু সত্যিই সেই আশাটা বেড়ে গেল। ফেলুদাকে যেন সেই পুরনো গোয়েন্দাগিরির ঢংএ ফেরত পেলাম। কেউ যেন আমাদের অবশেষে বুঝলেন। পরিচালক সৃজিত মুখার্জ্জীকে তাই সবার প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানাই। কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক মোবাইল যুগের সময়োপযোগী করার অহেতুক অস্বাভাবিকতায় না মুড়ে ফেলে পরিচালক ফেলুদাকে খানিকটা হলেও পুরনো নিজস্বতায় ফিরিয়ে এনেছেন। সময়টা কাহিনী অনুযায়ী থাকলে দর্শকদের কয়েক দশক পরেও যে গল্পটার প্রেক্ষাপট বুঝতে অসুবিধে হয় না সেটা নিয়ে বোধহয় এবার আর কোনও সংশয় থাকবে না। রহস্যটা যেখানে আসল, সেখানে কাহিনীর মূল সময়টা কয়েক দশকের পুরনো হলে ক্ষতি কি? যুগটা বরং অবিকৃত রাখলেই তো কাহিনীতে বর্ণিত ঘটনাগুলোর গতিপ্রকৃতি স্বাভাবিক থাকে। সৃজিতবাবুকে সাধুবাদ এই খেয়ালটা রাখার জন্য। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ফেলুদার ভূমিকায় টোটা রায়চৌধুরী। এই ফেলুদা যেন বইয়ের ছবি থেকে উঠে আসা ফেলুদা। বছরকয়েক আগে ‘টিনটোরেটর যীশু’ ছায়াছবিতে এই ভদ্রলোককে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখে মনে হয়েছিল এই যেন রুপোলী পর্দার জন্য ঠিকঠাক পরের ফেলূদা। সেইজন্য টোটা রায়চৌধুরী অভিনীত ফেলুদা চরিত্রটিকে পেয়ে আমার উৎফুল্লতা দেখে আমাকে পক্ষপাতদুষ্ট লাগতেই পারে। মনের মতো চেহারার ফেলুদা পেলে কে না খুশি হবে? কিন্তু এই খুশিটা যে চিরস্থায়ী হলো না সেখানেই খেদ। সৃজিত-টোটা অনুষ্ঠিত যুগলবন্দী ফেলুদার বাহ্যিক দিকটির দিকে একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে ফেলে তার গোয়েন্দা সত্ত্বার সাথে মানানসই ব্যক্তিত্বের দিকটির প্রতি খানিকটা হলেও কম গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন, মাঝেমধ্যেই অকারণ ঔদ্ধত্বের প্রকাশ হয়েছে ফেলুদার সংলাপে যা তার আত্মবিশ্বাসী ধৈর্যশীল চরিত্রের পরিপন্থী। বাচনপটুতা ও বাচনশৈলীর মধ্যে তফাতটা খেয়াল রাখলেই এই সমস্যাটা আর থাকে না। তারপর পরের দিকে যদিও ফেলুদা অনেকটা সাবলীল কিন্তু প্রথমদিকের কাহিনীতে ফেলুদার মেকআপ ভীষনভাবে ‘জয় বাবা ফেলুনাথে’এর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো হয়ে গিয়েছিল যে খোলসের মধ্যের টোটা রায়চৌধুরীকে যেন খুব আড়ষ্ট করে রেখেছিল। তবে সবথেকে যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো জটায়ুর সাথে ফেলুদা আর তোপসের সম্পর্কটা যে নির্ভেজাল বন্ধুত্ব আর রসিকতার সেটা সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাটা।
তবে ফেলুদাকে নিয়ে যাই বলি না কেন, লালমোহনবাবু কিন্তু ফাটিয়ে দিয়েছে। মানে, জটায়ু চরিত্রে অনির্বাণ চক্কোত্তি যে সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন, সেটা কিন্তু হলফ করে বলতে পারা যায়। সন্তোষ দত্তের পরে এরকম জটায়ু আগে চোখে পড়েনি কখনও। একাধারে রহস্যরোমাঞ্চ ঔপন্যাসিক, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় অথচ ভীতস্বভাবের বাঙালী, অন্যধারে বন্ধুবৎসল ভালোমানুষ গোছের এক মজাদার ব্যক্তিত্ব, মানে জটায়ু বলতে ঠিক যা মনে হয়, অনির্বাণবাবু আমাদের ঠিক সেটাই উপহার দিয়েছেন। জটায়ুর পর্যবেক্ষণক্ষমতা যে সাধারণের মতোই ও সাধারন জ্ঞান অতি সাধারন, সেটা ফেলুদাদের কাছে কখনো ব্যাঙ্গের না হয়ে শুধু সৌহার্দপুর্ণ রসিকতার জায়গাতেই সীমাবদ্ধ সেটা অনেকে বুঝতে পারেন না। লালমোহনবাবুর ব্যক্তিত্ব খর্ব না করেও যে চরিত্রটিকে মজায় মোড়া যায়, সেই কৃতিত্ব চক্রবর্তী-মুখার্জ্জী দেখিয়ে দিয়েছেন। জটায়ু যে কখনোই ফেলুদাদের কাছে উপহাসের পাত্র হতে পারেন না, সেই ব্যাপারটা অনেকেই ধরতে পারেন না। এই পরিচালক পেরেছেন ও সেজন্য ওনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
তুলনায় কল্পন মিত্রকে তোপসের চরিত্রে বেশ খানিকটা ম্রিয়মান লেগেছে। পরের কাহিনীতে তাকে আরেকটু কম সলজজ দেখালে বোধহয় সঠিক দেখাবে।
রম্যদিপ সাহার মনোমুগ্ধকর চলচ্চিত্রায়ণ চারপাশের দৃশ্যগুলিকে যেমন অনন্য মাত্রা দিয়েছে তেমনি তন্ময় চক্রবর্তীর শিল্প নির্দেশনা, সাবর্ণী দাশ রচিত সাজসজ্জা, প্রসেনজিৎ ব্যানার্জ্জী ও মলয় মুখার্জ্জীর মেকআপ চরিত্রগুলিকে গল্পের বর্ণিত সময়ের সাথে উপযোগী করে তুলেছে। জয় সরকারের সঙ্গীতের ও শ্রীজাতর কথায় রূপঙ্কর বাগচী, রূপম ইসলাম, অনিন্দ্য চ্যাটার্জ্জী, শিলাজিত মজুমদার, অনুপম রায় ও সিদ্ধার্থ রায় সুরের জাদুতে ধারাবাহিকগুলোর মুখবন্ধের লগ্ন থেকেই জমিয়ে দিয়েছেন। পার্শ্বচরিত্রে ধৃতিমান চ্যাটার্জ্জী, অরুণ গুহঠাকুরতা, রাহুল ব্যানার্জ্জী, মৈনাক ব্যানার্জ্জী ও সুপ্রভাত দাসের অভিনয় নজর কাড়ার মতো।
তাই বলছি যে ফেলুদা-লালমোহন-তোপসে ভক্তদের কাছে আড্ডাটাইমস ও হইচইতে চলা এই দুটি সিরিজ খুবই চিত্তাকর্ষক লাগবে।
তবে পরিচালকের প্রতি একটাই অনুরোধ। ফেলুদামাত্রেই ছোটোবড় মিলে একসাথে দেখার ছায়াছবি। একটি বিশেষ জায়গায় কিন্তু একটি প্রাপ্তবয়স্কমার্কা দৃশ্যের ঝলক চোখে পড়ল! এরকম দৃশ্য যদি অবতরণ না করা হয়, খুব অসুবিধা হবে কি কারুর? পরিচালক ভবিষ্যতে যদি এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখেন, ফেলুদাভক্ত হিসেবে তবে নিশ্চিন্তে থাকা যায়।