Showing posts with label Zee5. Show all posts
Showing posts with label Zee5. Show all posts

Tuesday, March 24, 2026

আবার প্রলয় ২: প্রলয় বলে প্রলয়!


একটা সিরিজ দেখলাম বটে!
প্রলয় মুভিটা দেখেছিলাম, মন্দ নয়। মশলা ছিল, তবে চলে যায়। পলিটিকাল নেতাদের অসামাজিক বাঁদরামোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে এক সাধারণ মানুষ, আর তার পাশে এক সৎ নির্ভীক পুলিশ অফিসার, অনিমেষ দত্ত। সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে গল্পটার শেষটাও সত্যি হলে খুশিই হতো অধিকাংশ মানুষ। যাইহোক, সিনেমাটা যথেষ্ট ঠিকঠাক ছিল।
তো এরপর এই মুভিটার উপর ভিত্তি করে এল আবার প্রলয় সিরিজ।
পুরো ফোকাস এবার অনিমেষ দত্তের উপর। স্পেশাল ব্রাঞ্চের দাপুটে এই অফিসার বেয়াদবী দেখলেই একেবারে নিজস্ব ট্রিটমেন্ট দিয়ে অপরাধীদের শায়েস্তা করেন। প্রথম সিজনেই বোঝা গেল যে এবার পুরোপুরি ঝাড়পিটের ব্যাপার হতে যাচ্ছে। তো তাই সই, মাথার উপর কম চাপ দিয়ে যদি টিভির পর্দায় একটু বজ্জাতদের ক্যালানো দেখতে পাওয়া যায়, ক্ষতি কি! তো দেখলাম এবং সত্যি বলতে কি, উপভোগই করলাম। মশলাটা এবার আরেকটু বেশি, তবে এবারও হজম হবে।
একরকম স্বাভাবিক তাগিদেই তাই দ্বিতীয় সিজনটাও দেখতে বসেছিলাম।
দেখেও ফেললাম।
তবে এবারেই বোধহয় ভুলটা করলাম!
খুব আশা করেছিলাম যে আমাদের জেনারেশনের একটা মিঠুনদা পেতে চলেছি। পেয়েও বোধহয় যেতাম! গুছিয়ে যেরকম ঝাড়পিট চলছিল। মানে, অনিমেষ দত্ত ওরফে শাশ্বত চ্যাটার্জি যেরকম গুণ্ডা দেখলেই রে রে করে রজনীকান্ত স্টাইলে অ্যাকশন দেখাচ্ছিলেন আর যা ডায়ালগ ঝাড়ছিলেন, তাতে মিঠুনদাই বোধহয় বাঙলা ছায়াছবি জগতে একমাত্র তুলনীয়। তবে ওই যে বলে না, অতি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে পড়ে যাবে, তেমনি একদিকে যেরকম অনিমেষ দত্তের ঝড়ে গুণ্ডারা কুপোকাত হচ্ছিল, সিনেমাটা হচ্ছিল অতিরিক্ত 'সাধুভাষা' প্রয়োগের জন্য। মানে এই সিরিজটা দেখার পর এই ধারণাটা হওয়াই স্বাভাবিক যে ভিলেন হলে তো গাছতলা লেভেলের ভাষা বলবেই, উপরন্তু যত করিৎকর্মা পুলিশ অফিসার হবে, ততো তার মুখের ভাষাও 'সুমধুর' থেকে অতি 'সুমধুর' হওয়াটা দরকার হবে। যাই হোক, এই অনর্গল ও অকারণ ডায়ালগের একঘেয়েমি যেমন ধারাবাহিকটার একটা গোলমাল, এইটার প্রতি বোধহয় অতিরিক্ত জোর দেওয়ার ফলে, বাকি ব্যাপারগুলোর একটু বেশিমাত্রায় সরলীকরণ ঘটেছে। 
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মশলার আধিক্য তো আছেই - এমনকি কম যাতে না লাগে, তাই বোধহয় সানরাইজ গুঁড়ো মশলাটাও ব্যবহৃত হয়েছে - কিন্তু তার সাথেও গোলমালও প্রচুর। দেখে তো ভয় হচ্ছে যে যেভাবে গয়নার দোকান লুঠকে প্রায় খেলনার দোকান লুঠের পর্যায় নামিয়ে দেখানো হয়েছে, কেউ না এসব ঘটনায় আবার অনুপ্রানিত হয়ে র‍্যাণ্ডম গয়নার দোকানে হামলা চালায়। সাথে আছে জেলের ভিতর ও বাইরেটা। এ যেন একেবারে ছ্যাঁচড়াদের স্বাধীন বিচরণক্ষেত্র - ভিতরে পুলিশ আসামীকে তদ্বির করছে - আর বাইরে - বাইরে পুলিশ কোথায়? দাগী আসামীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, মিডিয়া নেই, লোকজন নেই, সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটা অতিরিক্ত পুলিশ পর্যন্ত নেই! কেন ভাই? যে যুগে জনতা পিঠ চুলকলে পর্যন্ত হোয়্যাটসঅ্যাপ হয়ে যায়, সেখানে সাংঘাতিক আসামীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে কি সমস্ত সার্ভার একসাথে ক্র্যাশ করে? তখন যেন সকলে ভি আর এস নিয়ে বাড়ীতে আই পি এল দেখছে! আর সিরিজ অনুযায়ী ভিলেনরা সামলাচ্ছে টেকনোলজি, সাথে পুলিস সামলাচ্ছে জেলের ভিতরের পার্টি! এই না হলে মশলা, গুঁড়ো করারও দরকার নেই, একেবারে গোটা গোটা ছেড়ে দিয়েছে রান্নায় এবার। তাই স্বাদটাও হয়েছে তথৈবচ। 
তাই অনিমেষ দত্ত, থুড়ি শাশ্বত চ্যাটার্জ্জীর চাপটাও এবার বেশি হয়েছে। পর্দার ওদিকের গুণ্ডা ও পর্দার এদিকের দর্শক, দুজনকেই সামলাতে হয়েছে। বলতেই হবে যে এই ভদ্রলোক হলেন এই সিজনটা পুরো সহ্য করার একমাত্র মোটিভেশন। অবশ্য সাথে আরো দুজন আছেন, খরাজ মুখার্জী ও সোহিনী সেনগুপ্ত, কিন্তু দুজনেই পুরোটাতে নেই বলে উল্লেখ করলাম না, তবে এই দুজনে কিন্তু প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, রোল স্বল্পদৈর্ঘ যাই হোক, অভিনয়গুণে অল্পক্ষণের দৃশ্যও কিন্তু অতিমাত্রায় উপভোগ্য করে দেওয়া যায়। সাথে বরং বলব যে পরিচালক (রাজ চক্রবর্তী) গল্পতে যদি সোহিনী সেনগুপ্ত অভিনীত চরিত্রটিকে আরেকটু জায়গা দিতেন সামনে আসার, তাহলে বোধহয় অন্যরকম কিছু হতে পারত।
অতএব, এর পরেও যদি কোনো সিজন আসে, আমি আবার দেখতে বসব বোমার ঘায়েতেও প্রায় কিছু না হওয়া অনিমেষ 'শাশ্বত' দত্তকে কিন্তু সাথে আরেকটু কম তেজোদীপ্ত ডায়ালগ আর আরেকটু বেশি ঠাসবুনট প্লট থাকলে বোধহয় পুরোপুরি ব্যাপারটাকে উপভোগ করতে পারব।

Monday, June 30, 2025

বেপরোয়া বিভীষণ

একদিকে আইসির মেয়ের বিয়ে সামনে, তাই তিনি ভীষণ ব্যস্ত!
অপরদিকে ওসিও নিজের নাতনির অন্নপ্রাশনের আয়োজন করতে বাড়িতে।
তাই বলাগড় থানাটা সেদিনের মতো চালানোর ভার পেল, এসআই বিধান সেন, যার বাড়িতে আবার স্ত্রী একলা থাকে এবং সে সন্তানসম্ভবা, তাই তারও মনে চিন্তা অনেক!
কিন্তু তা বললে চলবে কেন? চোরডাকাত তো আর বসে থাকবে না! তাই সেদিন দুপুরের দিকে কাছের জঙ্গল থেকে একটা অচেনা লাশ উদ্ধার হলেও খুব একটা বিশেষ রকমের অস্বাভাবিক কিছু লাগেনি কারুর। কিন্তু মুশকিলটা শুরু হল তারপর পুলিশের প্রায় নাকের ডগা দিয়ে যখন সেই লাশের মাথাটা কেউ হাপিস করে দিল। এতেই অবশ্য ব্যাপারটা থামল না! এই লাশের মাথা খুঁজতে বেড়িয়ে বেরোল আরেকটা লাশ, তবে এবার মাথা সমেত! বিধান সেনের এই অবস্থায় নিজের মাথা, মানের নিজের চাকরীটা সামলানোই দায় হয়ে পড়ল। একে জোড়া খুন, তার উপর চুরির কেস তো থানায় লেগেই আছে! সাথে মাথা হারানোর সম্পূর্ণ দায়। আইসি হাত তুলে দিয়েছেন, ওসি অবশ্য সাহায্য করে যাচ্ছেন সাধ্যমতো, আর সাহায্যের ব্যাপারে সাথে আছে সহকর্মীরা, যাদের অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাটা মোটামুটি গুছিয়ে থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ হেন পুলিশের দল নিয়ে বিধান কি পারবে অপরাধী ধরতে? বলতেই পারতাম যে জানার জন্য দেখতেই হবে.....ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্ত না, তাহলে বোধহয় খানিকটা ভুলই বলতাম।
মজাটা হল, গল্পটা থ্রিলারধর্মী মনে হলেও, তার আসল রূপটা হলো মনস্তাত্ত্বিক। আর এখানেই পরিচালক, রাজা চন্দের মুন্সিয়ানা, যেখানে অপরাধীকে ধরার থেকে তার মনটার হদিশ পাওয়া ও তারপর তার দখল নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদম প্রথম থেকেই যার মায়াবী মুর্চ্ছনা ধরা পড়েছে রথীজিৎ ভট্টাচার্য রচিত অসাধারণ এক ওপেনিং স্কোরের মাধ্যমে। সুবীর মান্নার পরিমিত মেকআপ ও শর্বরী চক্রবর্তীর সামঞ্জস্যপূর্ণ পোষাক চয়ন, দৃশ্যগুলোকে অস্বাভাবিকরকম স্বাভাবিক করে তুলতে পেরেছে।
অভিনয়ে সোহম মজুমদার ঠিকই আছে, তবে কথাটা খানিক কম চিবিয়ে বললে আর ক্ষেত্র নির্বিশেষে চলনবলনটা আরেকটু কম নরম করলে চরিত্রটা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেত! অবশ্য দেখার মতো অভিনয় করেছেন দেবপ্রিয় মুখার্জ্জী ও অমিত সাহা। চরিত্রের মধ্যে সম্পূর্ণ ঢুকে গিয়েও কি সাবলীল অভিনয় দেখানো যায়, আমার উত্তরোত্তর পছন্দের শিল্পী, এই দেবপ্রিয় মুখার্জ্জী, তাই যেন প্রমাণ করছেন বারবার। অমিত সাহাও লা জবাব! স্রেফ যেন অভিব্যক্তি দিয়েই মাত করে দিলেন।
তাই বলছি, সিরিজটা দেখা দরকার। ভুলত্রুটি হয়তো অল্পবিস্তর হলেও আছে, কিন্তু তারই মাঝে ভাবনার কিছু সূক্ষ্ম খোরাকও যে বিছিয়ে রাখা আছে।

Saturday, September 21, 2024

Murshid: A Matter of Mindgame

A deal for drugs is sabotaged and a chain of gory events begins. When his surviving son is held captive with his life hanging on the edge, the don returns from his self-imposed exile from a life of crime. Losing a son in a fatal accident, Murshid Pathan had vowed not to touch arms again but fate forced the retired ruler of the underworld to enter the darker arena for saving his family. But the cruel has turned crooked and so did the policy traders. These make the path ahead further difficult for the once revered don of yesteryear. With elections round the corner and henchmen of rival gangs seeking the feeblest of opportunities to strike, the father in Murshid has to strategise his each move in a desperate bid to save his kid! As time ticks in alarming monotony, all that remains to be seen is whether Murshid still had the grip of the underworld! Can he instill command on the young and fear in the heart of his rival? Will he be able to reclaim the throne that he wilfully vacated?

Watch to know for yourself, as rivalry splits the underworld and the politics for power in the series that, though, is fast paced but strangely lacks the vigour somehow! But Kay Kay Menon compensates for all the shortcomings as his mere presence is enough to steal the limelight that steers the show with a performance that greatly and critically matters!

Wednesday, May 24, 2023

সাবাশ ফেলুদা: রহস্যটা গড়বড়ে!

অরিন্দম শীল যখন ব্যোমকেশের মতো শান্তশিষ্ট রহস্যভেদীকে দিয়েও গুণ্ডা ঠেঙিয়েছিলেন, গোয়েন্দা পুলিশ শবরকে আরো স্বাভাবিকভাবে গুণ্ডাদের পিছনে ছুটিয়েছিলেন, তখন ফেলুদার মতো প্রাত্যহিক শরীরচর্চা করা কাউকে পেলে তিনি যে প্রবেশের দৃশ্য থেকেই দৌড় করাবেন, তাতে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে মুশকিল হচ্ছে, মগজাস্ত্রের কারবারীদের পরিচয় দৃশ্যটা যদি মিলখা সিং জাতীয় হয়, তাহলে মাথা থেকে রহস্যের আমেজটা ওই উড়ন্ত শিখের গতিতেই উড়ে যায়! তাই পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ফেলুদার চরিত্রে ঠিক যে জমাতে পারলেন না, বোধহয় তার প্রধান কারণ পরিচালক ফেলুদাকে দৌড়বীর এরকুল পোয়ারো করতে চেয়েছেন বলে। আবার অন্যদিকে ঋত্বিক চক্রবর্তীও কি কৃত্রিম কিছু দৃশ্যে! যদিও ফেলুদার গল্পগুলো আমার পড়া থাকার দরুন চরিত্রদের চমকগুলো মোটামুটি জানাই থাকে, তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আমার খুব প্রিয় অভিনেতাদের তালিকায় থাকা এই ব্যক্তিটিকে এই সিরিজে কিছু জায়গায় বেশ প্রেডিক্টেবল লেগেছে!
অবশ্য পরিচালককে একটা ব্যাপারে কিন্তু তারিফ করতেই হবে - ফেলুদাকে সেলফোনের যুগে এনে ফেলেও এতটুকু বেমানান করে দেখাননি কাহিনিটাকে, উপরন্তু স্মার্টফোনের এক বিশেষ বিরক্তিকর 'ওভারস্মার্ট' আচরণকে জুতসইভাবে ব্যবহার করে গল্পে বর্ণিত প্রযুক্তির মূখ্য এক ভূমিকার যুক্তিগ্রাহ্য আধুনিকিকরণ করেছেন যা দেখে রায়মশাই পর্যন্ত খুশি হতেন মনে হয়।
তারিফ পাওয়ার যোগ্য অবশ্য আরো তিন অভিনেতা। প্রথম দুজনের নাম হলো দেবপ্রিয় মুখার্জ্জী ও সৌরসেনী মৈত্র। দুজনেই এমন দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে দুটি চরিত্র বইতে নেই, কিন্ত গল্পের খাতিরে এমনই বিশ্বাসযোগ্যভাবে অভিনয়টা করেছেন যে আমাকে বইটা খুলে নিশ্চিত হতে হয়েছে চরিত্রদুটির উপস্থিতি সম্পর্কে। কাহিনীতে নতুন চরিত্র ঢুকিয়েও তাকে নিপুণভাবে গল্পের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য তাই পরিচালক ও এই দুই অভিনেতাদের প্রশংসা করতেই হবে। দেবপ্রিয় মুখার্জ্জী এক মরাঠি পুলিশ অফিসারের চরিত্রে যে সাবলীল অভিনয়টা করলেন, দেখে কে বলবে তিনি বাঙালি না মরাঠি? এদের বাদ দিয়ে তৃতীয় যে অভিনেতা পুরো সিরিজটা মাতিয়ে দিলেন, সেই রুদ্রনীল ঘোষ সেরা অভিনয়টা উপহার দিলেন নিশিকান্ত পাকড়াশির চরিত্রে। 'গ্যাংটকে গণ্ডগোল' যেহেতু 'সোনার কেল্লা'র ঠিক আগের উপন্যাস, তাই লালমোহনবাবু এতে নেই। সত্যজিতের ভাবনায় থাকা লালমোহনবাবুর কাছাকাছি চরিত্র এই নিশিকান্ত পাকড়াশির ভূমিকায় রুদ্রনীল মজাদার অথচ হালকা সন্দেহজনক এই চরিত্রটির মধ্য দিয়ে কৌতুকের দরকারটা মিটিয়ে দিয়েছেন। আবার সিধুজ্যেঠার চরিত্রে প্রবীণ অভিনেতা বিপ্লব চ্যাটার্জ্জীকেও বেশ মানিয়ে গেছে।
তাই রুদ্ধশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো টানটান কাহিনি, 'গ্যাংটকে গণ্ডগোল'কে টেনে টেনে দশটা পর্বে দেখালেও বিশেষ কিছু চরিত্রের জন্য সিরিজটা দর্শকদের কাছে খানিকটা নতুনত্ব আনতে পারে।