Showing posts with label Men WC. Show all posts
Showing posts with label Men WC. Show all posts

Tuesday, June 30, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Brazil vs Japan

What a match!

What drama!

What a beautiful game!

শুরুতে বিপক্ষের থেকে বল ছিনিয়ে সানোর সোলো রানে চোখধাঁধানো গোল। 

তারপর দুর্ধর্ষ ডিফেন্সে ব্রাজিলকে নাস্তানাবুদ করে প্রথমার্ধে গোল করতে না দেওয়া।

পিছিয়ে থেকেও হাল না ছেড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের চেনা আক্রমণাত্মক ছন্দে ফিরে ক্যাসেমিরোর হেড থেকে জাপানকে গোল শোধ।

রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচের ৯০ মিনিটের পরের অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহুর্তে ব্রুনো গিমেরিশের অনবদ্য অ্যাসিস্ট থেকে মার্টিনেলির তেমনি দুর্দান্ত গোলে ব্রাজিলের জয়!

What a relief!

ব্রাজিলের ফ্যান হিসেবে বলছি যে এই দ্বিতীয়ার্ধের ভয়ঙ্কর সুন্দর খেলাটাই ব্রাজিলের থেকে চাই..... আর ফুটবলের ভক্ত হিসেবে বলব এইরকম ম্যাচ দেখতেই তো চার বছর অপেক্ষা করি।

আশা রাখব যে পরের যে খেলাগুলো দেখব, এর থেকে কম রোমাঞ্চকর হবে না!

জাপানের বিদায়টা বীরের মতো হল, ব্রাজিলের আরো দুটো অবধারিত গোল হয়তো হল না, কিন্তু খেলাটা যা দেখলাম, যথেষ্ট উপভোগ করলাম, আশায় রইলাম!

Thursday, June 25, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Scotland vs Brazil

একটাই ভুল করেছিল স্কটল্যান্ড সাত মিনিটে। কিন্তু তাকে কনভার্ট করতে ভিনিশিয়াস জুনিয়র কোনো ভুল করেনি আদৌ। তাই ব্রাজিল এক গোলে এগিয়ে থাকল শুরুতেই। অবশ্য তারপরেও একটা গণ্ডগোল হয়েছিল হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগে। আবার ভিনিশিয়াস জুনিয়র, আবার গোল, কিন্তু প্রযুক্তি এবার স্কটল্যান্ডের সহায় ছিল বলে গোলটা নাকচ হয়!
কিন্তু তারপর কি হল দলটার?
বাকি প্রথমার্ধ তো স্কটল্যাণ্ডই রাজত্ব করল মাঠ জুড়ে।
কোথায় ব্রাজিল?
কি ডিফেন্সিভ লাগল দলটাকে!
যদি এই সময়ে জার্সি বদল করত দুই পক্ষ তো কে ব্রাজিল বোঝাটা হয়ত মুশকিলই ছিল দর্শকের কাছে!
খারাপ লাগছিল তাই স্কটল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে আরেকটা গোলে পিছিয়ে যেতে দেখে। এটা অনস্বীকার্য যে খেলার প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে খুব একটা আক্রমণাত্মক লাগেনি। তার বদলে অ্যাংগাস গানের অতিরিক্ত সময়ের স্কটল্যাণ্ডের হয়ে গোল সেভটা মনটাকে যেন বেশি ভরিয়ে রাখল!
চেনা ছন্দটা অবশ্য ব্রাজিলের মধ্যে ফিরে পেলাম পরের দিকে। পুরনো আক্রমণাত্মক ভঙ্গীটা দ্বিতীয়ার্ধে দেখাল দলটা। পাওনা হল ব্রুনো গিমেরিশের অসাধারন অ্যাসিস্ট থেকে করা কুনহার গোল আর সাথে তিনটে অনবদ্য সেভ করে Alisson ভরসা জোগাল কিছুটা।
তবে এবার তো নক আউট স্টেজ, এবার ছোটোখাটো ভুল হলেও বিদায় নিতে হবে। আশাকরি আনচেলোত্তি বুঝেশুনেই স্ট্র্যাটেজি নেবে। হতেই পারে যে আস্তিনের তলায় আরো কিছু তাস আছে, ধীরে ধীরে বেরোবে।
ব্রাজিল নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের স্টেজে যাচ্ছে। তাই বিজয়ীদের মতই আচরণ দেখতে চাই তাদের থেকে। কারণ দলটা যে ব্রাজিল আর খেলাটা..... ফুটবল!
শুভেচ্ছা রইল।

Saturday, June 20, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Brazil vs Haiti

বেশিদূর এগোনো মুশকিল আছে এরকম খেললে!
ব্রাজিলের কথা বলছি।
এই যদি হাইতিকে নিয়ে হাল হয়, তো আরেকটু শক্তিধর বিপক্ষ হলে তো হয়ে গেল গল্প!
না না, খেলার স্কোর দেখে কিছু বোঝা যাবে না।
ব্রাজিল ৩ গোলে জিতেছে, বিপক্ষকে একটাও গোল করতে দেয়নি, এসব ভেবে লাভ নেই! দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটা দেখে বেশ দুশ্চিন্তাই লাগছে দলটার জন্য।
আগের ম্যাচে মরক্কো তো দেখিয়ে দিয়েছে কি করে ব্রাজিলকে গোল দেওয়াও যায় আর খেলাটা ড্র রাখাও যায়। তার উপর রাফিনিয়ার চোট। নেইমারও চোটে বসে, লোকটার যতই মাঠে নেমে নাটক করার বদভ্যাস থাকুক না কেন, এমন মাপের skillful player কমই আছে। এই কারনেই দলটার চাপ আছে।
এই বিশ্বকাপে পর্তুগালকে আটকে দিয়েছে কঙ্গো, স্পেনের আক্রমণকে রুখে দিয়েছে কাবো ভার্দের মতো এক অনামি দেশ। এদের মতো দুর্ধর্ষ রক্ষণ তো হাইতির ছিল না, ব্রাজিল তবুও প্রায় কিছুই করতে পারেনি বলব।
ভিনিশিয়াস জুনিয়র একমাত্র, যে কিছু আক্রমণ শানাতে পারছিল left wing থেকে, ডানদিকটায় জাস্ট কোনো ধার নেই দলটার। তবে কুনহার গোলদুটো দেখে একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি, এরকম সুযোগসন্ধানী কোনো ফিনিশার থাকলে, অন্তত পেনাল্টিবক্সে বল গেলে কিছু একটা হতে পারে! এরকম একজনের অভাব টের পাচ্ছিলাম ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচটাতে! আজকে খানিকটা তবু শান্তি পেলাম কুনহার গোল করার ক্ষমতা দেখে। এরপর কাউকে পাওয়া না গেলে আবার ম্যাচ দেখতে আসা রোনাল্ডো আর রোনাল্ডিনহোকেই না মাঠে নামতে হয়! বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের প্রথম অন্য দেশের কোচ, ইতালির কার্লো আনচেলোত্তি এরকম কিছু ভেবে বসলে খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু লাগবে না মনে হয়। দলটার হাল ফেরাতে কিছু তো একটা করা দরকার তাড়াতাড়ি করে।

Sunday, June 14, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Brazil vs Morocco

ব্যাপারটা হল যে এই খেলাটার একটা তাৎপর্য আছে।
ফিফার এই মুহুর্তের র‍্যাংকিং অনুযায়ী ব্রাজিল ছয়ে আর মরক্কো সাতে! তাই দলের ভিত্তিতে বলতেই পারা যায় যে এই খেলাটা একটি হাড্ডাহাড্ভি লড়াইয়ের চেহারা নেবে। আসলে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে এটাই একমাত্র খেলা যেটাতে ফিফার ক্রমতালিকায় থাকা প্রথম দশের দুটি দল নিজেদের মধ্যে খেলছে!
অনিবার্যভাবে এই ম্যাচটা তাই অনেকেই মুখিয়ে থাকবে দেখার। তাই খেলাটা শুধুমাত্র শারীরিক দক্ষতার মধ্যেই সীমিত নয়, লড়াইটা বেশ অনেকটাই স্নায়বিক হতে বাধ্য!
তাই ব্রাজিলের অন্ধ সাপোর্টার হলেও বলব, ঠিক এই জায়গাটাতে ম্যাচে মরক্কো জিতে গেল। ম্যাচ শুরুর প্রথম থেকেই যে আক্রমণাতক ভঙ্গিতে ব্রাজিলকে চেপে ধরেছিল মরক্কো যে বেশ অনেকক্ষণ ল্যাটিন আমেরিকার দলটি নিজেদের হাফেই থেকে যাচ্ছিল।
মরক্কোর দলটাকে বলা হয় অ্যাটলাস লায়নস। খেলাটাতে এই সিংহদের দাপট সাম্বার ছন্দটাকে যথেষ্ট মৃয়মান করে দিল। যেভাবে তারা ব্রাজিলকে নিজেদের অর্ধেই ব্যাকপাস করতে বাধ্য করাচ্ছিল যে ভয় হচ্ছিল কখন না তাদের গোলকিপার অ্যালিসন নিজের এত পাস রিসিভ করতে করতে অভ্যাসের বসে নিজের গোলেই না ব্যাকপাস করে ফেলে!
যাই হোক, এরকম কিছু কাণ্ড হয়নি, কিন্তু ব্রাজিলের খেলা একটুও মন ভারতে পারেনি অবশ্যই। ছোটো ব্যাকপাস তো তাও যার কাছে যাওয়ার যাচ্ছিল। কিন্তু লং পাসগুলো? কি বিচ্ছিরিভাবে দিকভ্রান্ত লাগছিল। জানিনা এদের আস্তিনের তলায় কি তাস আছে, এরকম খেললে কিন্তু ভবিষ্যতে যথেষ্ট চাপ! তার উপর ফাউলের ছড়াছড়ি। এবারের দলটাকে কিন্তু এখনও পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো ছন্নছাড়া লাগছে।
অন্যদিকে মরক্কো এক অসাধারন ভারসাম্যে ভরা খেলা উপহার দিল। তাদের গোলটা তো এককথায় অনবদ্য। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাইবারির গোলটা যেকোনো ফুটবলারের স্বপ্নের গোল হবে। এরকম বুদ্ধিদীপ্ত গোলের একমাত্র কাছাকাছি তকমা হচ্ছে পানেনকা শট্, যদিও এই বিশেষ উপমাটা পেনাল্টির ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য!
তবে ব্রাজিলের গোলটাও অসাধারন লেগেছে। নিজের পঞ্চাশতম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র এই গোলটা দিয়ে ব্রাজিলের উপর ভরসাটাকে একেবারে কমতে দিল না, মানতে হবে! তার সাথে Raphinha দেখাল গোলের জন্য বল বানানোর কৌশল। এই দুটোই ব্রাজিলভক্ত হিসেবে পাওনা। বাকি যা থাকে তো সময় বলবে!

Saturday, June 13, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: USA vs Paraguay

USA প্রথম গোলটা দেয়নি, প্যারাগুয়ে দিয়েছে..... own goal!

মার্কিনীদের করা দ্বিতীয় গোলটাও নাকচ হয়ে গেল..... offside বলে!

কিন্তু আসল দ্বিতীয় গোল, যেটা ওই নাকচ হওয়া গোলটির গোলদাতা, ব্যালোগানই করলেন, তার স্মৃতি ম্লান হয়ে যাবে গোলটার পিছনে করা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের চমকদার assist দেখে। একেই বোধহয় বাংলায় মাইনাস করা বলা হয় খেলাতে। এই গোলটির কারিগর, পুলিসিক, দলটির ক্যাপ্টেন, এবং প্রকৃতই ফ্যানেদের দেওয়া Captain America উপাধির যোগ্য বাহক!

অবশ্য ব্যালোগান এরপরে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল করেন এবং সেটিও just awesome.

প্যারাগুয়ের পক্ষে একমাত্র গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে কিন্তু তার প্রতিফলন খুব একটা কিছু হয়নি ম্যাচটির প্রধান চরিত্রে, উপরন্তু এই গোলটির কারনে গোল ব্যবধান কমলেও, তাকে আবার একই ব্যবধানে ফিরিয়ে আনল রাইনার করা আরেকটি চমকপ্রদ গোল, দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে।

মার্কিনীরা নিজের দেশে বিশ্বকাপ হলে প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয় ওঠে। এই কথাটা ব্রাজিল হাড়ে হাড়ে বুঝেছিল ১৯৯৪ সালে। আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ব্রাজিল জিতেছিল ঠিকই, কিন্তু ফাইনালে ওঠার পথের প্রথম নক আউট ম্যাচটা বের করতে প্রচণ্ড চাপে পড়েছিল আমেরিকা দলটার কাছে! এবার আমার ধারনা এই দলটা এবার যে চ্যালেঞ্জটা দিচ্ছে, তাকে হালকাভাবে নিলে প্রতিপক্ষরা অবশ্যই ভুল করবে।

আরেকটা ভুল অনেকেই এবারের বিশ্বকাপে করলে চাপে পড়বে - মাঠের মধ্যে বেশি নাটক করলে! এবার যদি কোনো প্লেয়ার দুমদাম পড়ে যায়, এই ব্যাপারটা বিচার করার জন্য জম্পেশ ব্যবস্থা আছে। মাঠে এবার গুছিয়ে টিভির ব্যবস্থা আছে রেফারির জন্য, তিনি নাটক ঘটলে দেখবেন এবং মনে করলে, না না অস্কার নয়, হলদে, লাল কার্ড দেখিয়ে অভিনেতাকে পুরস্কৃত করবেন সাথে সাথে। এই ম্যাচটা তাই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতেই কেউ প্রথমবারের জন্য mistaken identity বিভাগে হলুদ কার্ড দেখল। প্যারাগুয়ের আগুয়ান মিগুয়েল আলমির্ন পড়ে গেলেন খেলা চলতে চলতে। রেফারি ভাবলেন বোধহয় টিম রিম ফাউল করেছেন পাশ থেকে। তিনি রিমকে হলুদ কার্ড দেখালেন সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু বাদ সাধল প্রযুক্তি! টিভিতে রেফারি বুঝতে পারলেন পড়ে যাওয়াটা নাটক ছিল। পরক্ষণেই রিমের শাস্তি নাকচ আর প্যারাগুয়ের অভিনেতাটির হলুদ কার্ড।

একইদিনে গোল নাকচ, শাস্তি নাকচ। প্রযুক্তির কাছে খেলা, গতি হয়তো খানিক থমকে যাচ্ছে, কিন্তু ন্যায়টা যে হচ্ছে, এটাই আমার কাছে দারুণ ব্যাপার।

তাই সাবধান, ময়দানটা কিন্তু খেলার।

খেলাটাই স্টেজ মাতাবে, অভিনয় করলে শুধু ঠকবে।

Friday, June 12, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Mexico vs South Africa

মেক্সিকান ওয়েভ তো আমরা খেলার মাঠে গ্যালারিতে দেখি। সাউথ আফ্রিকার ফুটবল দলটা দেখল খেলার মাঠে, আর সেই ঢেউয়ের দাপটে স্রেফ যেন ভেসে গেল তারা! সাথে অবশ্য দোসর ছিল কিছু বিশ্রি ফাউলের যোগ, যার বদান্যতায় নিট্ ফল মেক্সিকোর ২ গোল আর সাউথ আফ্রিকার ২টো রেড কার্ড। অবশ্য বাজে ফাউল করার ছোঁয়াচ থেকে মেক্সিকো দলটাও শেষমেশ বাঁচতে পারেনি। তাই তারাও ইনজুরি টাইমে ১টা রেড কার্ড দেখে কিছুটা সান্ত্বনা পেল বইকি।
খেলাটার ফল অবশ্য মেক্সিকোর পক্ষে ৪ গোলও হতে পারত, কিন্তু হলো না সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক ও দলটার গোলরক্ষক, উইলিয়ামসের কিছু দুর্দান্ত সেভের কারনে। তাই কুইনোনেসের প্রথম গোলটার পর জিমেনেজকেও দ্বিতীয়ার্ধে করা ১টা গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো মন জয় করে নিলেও সাউথ আফ্রিকার খেলার ধরনটা খানিক বদলাতে না পারলে তাদের সমর্থকদের হতাশ হওয়াটা অবশ্যম্ভাবী! এই খেলাটাতে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ছিলেন এই বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ প্লেয়ার, মেক্সিকোর ১৭ বছরের একটু বেশি বয়সি গিলবার্তো মোরা, কিন্তু নজরটা অবশ্যই কাড়ল রাউল জিমেনেজের সুযোগসন্ধানী পায়ের খেলাটা!

Sunday, December 11, 2022

কাতার quips: Croatia vs Brazil

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে হেরে এবারের মতো ছিটকে যাওয়াতে মনটা বেশ খারাপ হয়ে আছে!
খেলার ব্যাপারে লেখা থেকে কিছুদিনের জন্য হলেও এবার তাই সাময়িক বিরতি!

Friday, December 9, 2022

কাতার quips: Morocco vs Spain

জয়টা মনে হলো স্পেনের হাত থেকে ছিনিয়ে নিলো মরক্কোর একরোখারা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একমাত্র অঘটনটা কিন্তু তারাই ঘটালো। তবে অঘটন বলি কি করে! খেলায় অঘটন তো বলা হয় যখন কোনো দল তাদের থেকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়! কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে মরক্কোর খেলা দেখে স্পেনের তুলনায় মরক্কোকে কি কিছু কম শক্তিশালী মনে হচ্ছিল? গোটা ম্যাচটা জুড়ে যা ডিফেন্স দেখালো ও তার সাথে opportunistic aggression, দলটাকে হালকা করে দেখলে পরে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব! স্পেনের বিরুদ্ধে এই ডিফেন্স দেখে আমি তো মুগ্ধ! ইতালির ডিফেন্স বিখ্যাত, কিন্তু এবার তাদের সেরা রক্ষনের শিরোপা না হাতছাড়া হয়ে যায়! অবশ্য মরক্কোকে আমার এই দিন বারেবারে স্পেনের মতো লাগছিল, গুলিয়ে যাচ্ছিল। তার কারণ হলো তাদের জামাগুলোর রঙ লালচে। স্পেনের খেলছে আর লাল জামায় সজ্জিত প্রতিপক্ষ - হয় নাকি!
যাইহোক, মরক্কোর যে ভুলটা শোধরানো দরকার, তা হলো গোলের কাছে তাদের পায়ের জোর হারিয়ে ফেলার অভ্যাসটা। যেহেতু এই জোরটা মনের থেকে আসবে, তাই বিপক্ষের কাছে মানসিক যুদ্ধটাতে তাদের জিততে হবে।
তবে স্পেনকে যে তারা চাপে রাখতে চলেছে, তা খেলাটার শুরুর আগে থেকেই মনে হচ্ছিল তাদের দেখে। তিনটে ব্যাপার চোখে পড়লো আলাদা করে।
প্রথমটা হলো, মরক্কোর জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন হাকিম জাইজির মুখটা চোখ বন্ধ অবস্থাতেও কোনো দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। দ্বিতীয় ব্যাপারটা অম্রাবতের পায়ের চোট নিয়ে রক্ষণ সামলানোর জেদ। আর তৃতীয়টা হলো তাদের গোলকিপার বনো। কোনো কঠিন কাজকে খুব সহজে করে ফেললে, ব্যাপারটাকে হাসতে হাসতে করে ফেলল বলে। বনোকে দেখে ঠিক এটাই মনে হচ্ছিল। এরকম সদাহাস্যময় কোনো গোলরক্ষক আগে দেখেছি বলে তো মনে পড়েনা। জোরদার হতে চলেছে পরের ম্যাচ, দেখি কি করে হাসিখুশি অথচ কখনো জেদি দলটা!

Wednesday, December 7, 2022

কাতার quips: Brazil vs South Korea

এ কোন ব্রাজিলকে দেখলাম? কিরকম যেন বদলে গেছে দলটা। ভুল বললাম! দলটা সেই পুরনো ব্রাজিলের চেনা ছন্দে মাতিয়ে দিলো। বদলটা মাঝে হয়ে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। আবার তারা তাদের জাদুসমেত হাজির। কোথায় সেই গোলের কাছে হারিয়ে যাওয়া ব্রাজিল দল! এবার তো গোলের গন্ধ পেলেই বল গোলে ঢুকছে। দলটাকে আবার করে চনমনে লাগছে বাচ্ছাদের মতো। নেইমার এফেক্ট তো রয়েছেই, দলে আবার ঢুকে পড়ে খেলার রঙটাই বদলে দিল। তবে দলটা বেশ কিছু ব্যাপারে বাকিদের থেকে অবশ্যই আলাদা। নিজেরা নাচছে, বিপক্ষকে নাচাচ্ছে, তারপর গোল দিয়ে দেখলাম কোচকে নিয়ে নাচছে। নাচ করতে চাইছে না খেলতে, বোঝা মুশকিল!
তবে কোরিয়া খারাপ খেলা দেখালো না ব্রাজিল ভালো, তা পরের ম্যাচগুলোর আগে বলাটা ঠিক হবে না। যতই হোক, পরের ম্যাচগুলিতে প্রতিপক্ষরা অধিকাংশই কোনো না কোনো বছরে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট বা বিশ্বকাপজয়ী!
তবে ম্যাচের প্রতিটি গোল - ব্রাজিলের চারটে আর দক্ষিন কোরিয়ার একটা গোল - হলো মনজুড়ানো। ভিনিসিয়াসের শান্ত কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত গোল, নেইমারের পেনাল্টির সম্মোহনী ক্ষমতা, রিচার্লিসনের শিল্প, পাকেতার সুযোগসন্ধানী টোকা, পাইকের দূরপাল্লার চকিত গোল - প্রত্যেকটা অনবদ্য।
তবে এলিসন দেখালো গোল আটকানোতেও কি জাদু দেখানো যায়। ব্রাজিলের এই গোলকিপারটি বেশ অন্য ধরনের। গোল ছেড়ে উইং থেকে বলের সাথে গল্প করতে ছুটছে, হামেশাই মাঝমাঠ খালি দেখলে উঠে আসছে বল ধরতে। কিন্তু যেই দেখছে বল বিপক্ষের কাছে, তার সতর্ক পাহারায় গোল প্রায় প্রতিবার আটকে যাচ্ছে। কখনো লাফিয়ে তো কখনো যেন উড়ে, আবার কোনোবার নিজের শরীরকেই বল ও গোলের মাঝের বাধা হিসেবে ব্যবহার করে গোল আগলানোর কি অদম্য তাগিদ! প্রায় প্রতিবার তার জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষ।
দেখা যাক পরবর্তী খেলাতেও আবার ব্রাজিল কোন জাদু দেখায়!

Tuesday, December 6, 2022

কাতার quips: Croatia vs Japan

খেলাটা ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান হচ্ছে না জাপান-ক্রোয়েশিয়া হচ্ছিল বোঝা যাচ্ছিল না! কি যে খেলছে, কেন যে খেলছে, কেউ জানে না! বল থ্রো করছে, লাইনের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, কর্নার কিকের জোরালো শটের চোটে বল অন্য কর্নার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে! ওপেন নেট পেয়ে গোল করতে পারছে না আর লোকজন লং শট যা নিচ্ছে মনে হচ্ছে বল কাতার থেকে এই দুই দেশের মধ্যে কোথাও না ল্যান্ড করে আর এই চরম টেনশনের মুহুর্তে জাপানী কোচের ছোট খাতাটায় নোট নেওয়া দেখে মনে হলো ভাইপোর বিয়ের বউভাতে প্লেট হিসেব করছে। কি বোরিং খেলা যে হলো, বলার নয়! ভাবলাম, ব্রাজিলের খেলা দেখার আগে ঘুমিয়ে নেব, কিন্তু এরা করতে দিলে তো! হাফটাইমের ঠিক আগে এক দল গোল দিল, হাফটাইম হয়ে খেলা শুরু হতেই আরেক দল ফেরত দিয়ে দিল! ব্যস, আবার অচলাবস্থা, যদিও গোলদুটো খেলার কয়েকটা মুহুর্ত জমিয়ে দিয়েছিল।
তবে খেললো বটে গোলকীপারদুজন, তারাই এই ম্যাচের ঠিকঠাক হিরো!
অতিরিক্ত সময় ধরে খেলা চলতে থাকলেও, এই দুটো দলের মধ্যে কে যে বিরক্তিতে অন্যকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল কে বুঝবে! তবে জাপান টাইব্রেকারে যে কি করে এই আজব ব্যাপার দেখালো কে জানে? চারটের মধ্যে একটা গোল দিতে পারলো! এরকম করলে এদের বাড়ি ফিরে যাওয়াই উচিৎ। সঙ্গে ক্রোয়েশিয়াকেও নিয়ে যেতে পারলে আনন্দ পেতাম, কিন্তু তা তো হওয়ার জো নেই। তবে ক্রোয়েশিয়া এরকম খেলা চালিয়ে গেলে চাইব খুব তাড়াতাড়ি তাদেরও যেন নকআউট হয়ে যায়! যে কোনো খেলা জেতার চেয়ে ফুটবলের জেতাটা বেশি জরুরি!

Saturday, December 3, 2022

কাতার quips: Brazil vs Cameroon

ক্যামেরুন গোল করেছে, গোল আটকেছে, তাই জিতেছে! ব্রাজিল গোল করেনি, আটকাতেও পারেনি, তাই হেরেছে! ব্যাস, এই হলো total summary! তবে গোল যে একটাই খেলো, এটাই অনেক! এডারসন না কয়েকটা আটকালে ব্যাপারটা আরো খারাপ হতো। ফলাফলটা অবাক করে দেওয়ার মতো তেমন কিছু নয় অবশ্য। এটা হওয়ারই ছিল, দেখার ছিল কবে নাগাদ হয়! এই ব্রাজিল team নাকি বিশ্বকাপ জিতবে.... তাহলেই হয়েছে! এরকম কিছু ঘটলে না দেখা যায় এদের সমর্থকেরাই চমকে উল্টে গেছে শকের চোটে! মানছি, আগের দুটো ম্যাচের তৈরী প্লেয়াররা অধিকাংশই খেলেনি, কিন্তু তা বলে এত সুযোগ নষ্ট হবে? বিপক্ষের পা থেকে বলের দখল নিচ্ছে তাড়াতাড়ি, নিজেদের মধ্যে স্বাভাবিক বোঝাপড়ায় দারুন সব মুভমেণ্ট তৈরি করছে, বিপক্ষের পেনাল্টি সীমানার বক্সে ঢুকে পড়ছে অতর্কিতে। কিন্তু ব্যস, তারপর কি যে হচ্ছে কে জানে, ওই পর্যন্ত গিয়ে যেন কিরকম তারা কুম্ভমেলায় হারিয়ে যাচ্ছে। এক মার্টিনেল্লি বাদে কাউকে গোলে বল রাখতে দেখলাম না। শুধু ওর জন্যই খারাপ লাগছিল, প্রচুর চেষ্টা করেছিল কিন্তু প্রতিবার বিফল হলো। Unfortunate, but hopefully he will have his day sometime in the future! বাকিরা তো শুধু ছড়ানোর প্রতিযোগিতা করছিল। ব্রুনো গিমেরেশের কথাই ধরা যাক না হয়। তার অবস্থা হলো রথের মেলায় গিয়ে রথটাই দেখতে না পাওয়ার মতো। ম্যাচের দিনে তাকে বোধহয় বল সমেত খালি গোলপোস্টের সামনে ছেড়ে দিলেও গোল করতে অক্ষম হতো। এডারসন সেই তুলনায় গোলটা ঠিকঠাক রক্ষা করছিল। যে গোলটা খেয়েছে সেটা তার ভুলের তুলনায় বিপক্ষের কৃতিত্ব বেশি দাবী করবে। গোলপার্থক্য বাড়তে পারতো তার দারুন কিছু সেভ না থাকলে।

অপরদিকে ক্যামেরুন ফাটিয়ে দিলো পুরো। যেদিন শুনেছি সেনেগাল এবার আফ্রিকাসেরা হয়েছে আর মিশরের মতো দল উঠতে পারেনি, কিরকম তখন থেকেই মনে হয়েছিল যে আফ্রিকার দলগুলো এবার যথেষ্ট বেগ দেবে। ব্রাজিল বোধহয় ধরতে পারেনি ব্যাপারটা। আমি ভেবেছিলাম ক্যামেরুন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। ভুল ভেবেছিলাম। পুরো খেলাটা তো অসাধারন খেললোই, বরং ঠিক করে দেখলে বলতেই হবে যে দ্বিতীয় হাফে ব্রাজিলকে সম্পুর্ণ ব্যাকফূটে রাখলো। চকিত আক্রমণ থেকে আবুবকরের হেড হয়ে যে গোলটা হলো, তা যেকোনো গোলকীপারকে বোকা বানিয়ে দেবে। এ তো গেলো গোল করার কথা। অপর প্রান্তে সিংহের মতো নিজের দেশের গোলটা প্রাণ দিয়ে আটকালেন যিনি সারা খেলাটা জুড়ে, সেই এপাসিকে সেলাম। বারবার দুরন্ত সেভ করতে করতে ও গোলের ভিতরে মাছি না গলতে দেওয়ার মতো পাহারা দিয়ে তিনি ব্রাজিলের মনোবল ভেঙে দিচ্ছিলেন। খেলাটাতে অসাধারন কিছু মুহুর্ত আনার জন্য পুরো ক্যামেরুন দলটাকে কুর্নিশ জানাতেই হবে। They played just awesome football.

সৌন্দর্য ও গতি মিশিয়ে যে খেলাটা উপহার দিলো দলদুটো, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই তাদের। তবে তৃতীয় আরেকজনের কথা এবার তবে না বললেই নয় যিনি খেলাটাকে অন্য মাত্রা দিচ্ছিলেন, ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল এলফ্যাত। খেলোয়াড়দের পিঠ চাপড়াতে চাপড়াতে, ঘাড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েও হাসিমুখে যে লাল কার্ড (regulation penalty) দেখানো যায় খেলার আমেজে পরিবর্তন না এনে, তা এই খেলাটা না দেখলে হয়তো কোনোদিন বুঝতে পারতাম না। যেমন বড় মাপের দলের খেলা, তেমন দক্ষতাই দেখাল যেন তাদের খেলার পরিচালক!

Wednesday, November 30, 2022

কাতার quips: Brazil vs Switzerland

ব্রাজিল জিতেছে, but, বলতেই হবে, কোনোমতে। কি যে হয়েছিল কে জানে। কি দুর্বল পাস দিচ্ছিল নিজেদের মধ্যে শুরুর দিকে। বোধহয় ঠিকঠাক খাচ্ছে না। তাই হবে। নাহলে গোল খাওয়ার এত অদম্য আগ্রহ কি করে হয়? গোলকিপার নিজের খেয়ালে গোল ছেড়ে মাঝমাঠে উঠে আসছে বল ধরতে, বিপক্ষের কারুকে পেলে নিজেদের বক্সে কাটাকুটি খেলছে, দলের বাকিরাও নিজেদের গোলের দিকেই বল টানতে থাকে বারবার - গোল খাওয়ার উদগ্র বাসনা না থাকলে কি এরকম হয়?
তারপর দ্বিতীয়ার্ধে দেখি অন্য বিপদ! এবার কিছু খেয়ে নেমেছে মনে হলো। খেলার গতি বাড়লো আর পায়ের জোর যেন তাকেও ছাপিয়ে গেলো। যাকে উদ্দেশ্য করে পাস দিতে চাইছে, তাকে ছাড়িয়ে বল অন্য কারুর দিকে চলে যাচ্ছে। যে গোলটা অফসাইডের কারণে বাতিল হলো, সেটা হলো তো এই কারণে। যাকে বলটা পাস দিতে চাইল, তার ও তার পরেরজনের বাড়ানো পা ছাড়িয়ে বল চলে গেল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছে। ফসকে যাওয়া বল নিয়ে গোলটা তিনি করলেন বটে, তবে গোলটা বাতিল হয়ে খেলার সম্মানটা রক্ষা হলো।
যেরকম খেলছে তাতে সুইসরা হয়তো কিছু করতে পারলোনা, কিন্তু বড় দলগুলো তো এরকম করলে এদের সাথে ছেলেখেলা করবে। ক্যাসেমিরোর গোলটা অসাধারন লেগেছে তবে দলগতভাবে ব্রাজিল বেশ ম্রিয়মান ছিল। নেইমার না থাকার দরুন মনে হয় দলের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। নেইমারকে যতই নাটুকে বলি না কেন, মাঠজুড়ে খেলে আক্রমণটাকে সাজানোর কারিগর কিন্তু তাকেই বলতে হবে। থিয়াগো সিলভা আর নেইমার মাঠজুড়ে খেলে সার্বিয়াকে বেসামাল করে দিয়েছিল। কিন্তু এবারে বোধহয় থিয়াগো সিলভাকে বাধ্য হয়ে রক্ষণটাই শুধু সামলাতে হলো। তাই গোলের সুযোগ করে দেওয়ার লোকও কমে গেল। নিশ্চয় চাইব নেইমার সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি মাঠে নামুক, কিন্তু তা বলে ব্রাজিল কি একজনের ভরসায় খেলবে নাকি! পরের খেলাগুলোয় পুরো দলটাকে স্বমহিমায় খেলতে দেখার আশা রাখব!

Sunday, November 27, 2022

কাতার quips: England vs USA

ইংল্যাণ্ড দলে হ্যারি কেন খেলে। কিন্তু বিশ্বকাপে সেদিন মার্কিনি ছোকরাদের সামনে তাদের হাতে হারিকেন হয়ে গেছিল আরেকটু হলে! গোলগুলোই যা হলো না তাদের বিপক্ষে। প্রথম কয়েকটা মিনিট লড়াইটা হয়েছিল সমানে সমানে। তারপর যে কাণ্ডটা মার্কিনিরা করল তাতে সাউথগেটের লজ্জায় পড়ার কথা। ইংল্যাণ্ড শুনেছি হেভিওয়েট দল হিসেবে খেলছে। তো ফেদারওয়েটের কাছে এই অবস্থা হলে মুশকিল আছে পরে। জনতা না তাদের কাছে জানতে চায় হ্যারি থাকতেও দলটা কেন খারাপ না খেলেও ছড়ালো।

But for that the credit goes to the young USA team. Their energy was really fascinating. পরের দিকে তারা চাপে রেখে দিয়েছিল বিপক্ষকে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের ঝড়ে। সত্যি বলতে কি, ইংল্যাণ্ডকে কার্যত দিশেহারা করে দিচ্ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে। Hope to see these guys keep up their spirit for future, cheers and best of luck!

Saturday, November 26, 2022

কাতার quips: Serbia vs Brazil

আহা, কি খেলা দেখলাম!

খেলা না বলে নৃত্যনাট্য বলা উচিৎ!

এ যেন কোনো অসামান্য ব্যালে, ballet on grass..... Brazilian ballet!

ব্রাজিলের খেলা মানেই এক অন্য অনুভুতি। মনে হয় যেন নিজের দল খেলছে। দুরুদুরু বুকে খেলাটা দেখতে হয়! যদি goal খেয়ে যায় তারা! সেই মাঝরাতের সাত গোলের দুঃস্বপ্ন তো আছেই, তার উপর খেলা দেখে মনে হয় এরা কি মানুষ না অন্য কিছু! অন্য কোনো দল নিজেদের বক্সে বিপক্ষের উপস্থিতিতে বল clear না করে চালাচালি করে বলে তো মনে হয় না। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে না বল নিয়ে সকালে বন্ধুদের সাথে চ্যাংড়ামো করতে বেরিয়েছে বোঝা যায় না। এরা মনে হয় একটুও ভাবে না সমর্থকদের মনে কি চলছে।

খেলোয়াড়দের ভয়ডর কম থাকতেই পারে, কিন্তু আমরা? আমাদের মতো সাধারন মানুষদের পক্ষে কি এত tension নেওয়া যায়? Pressure বেড়ে যায়, নার্ভ fail হয়ে যায়, heart fail হয়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়, চাই কি চাপে নিম্নচাপ পর্যন্ত পেয়ে যেতে পারে! কিন্তু ব্রাজিল দলকে কথাটা বোঝাবে কে? তারা তো দেখি বল পেলেই সাম্বার তালে নাচতে থাকে আর বিপক্ষের দলকেও যেন নাচাতে থাকে। খেলার শুরুতে যেই সেণ্টার হয়ে বল ব্রাজিল পাবে, তাকে ব্যাকপাসের ঠেলায় পিছিয়ে নিজেদের গোলকিপার পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এই অবাক কাণ্ড দেখে যখন সমর্থকরা এদের মুণ্ডপাত আর নিজেদের শরীরে অস্বস্তি বোধ করবে আর বিপক্ষ মনে করবে এ কি অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে - বল তো দেখছি গোলের কাছে প্রায় চলেই এসেছে, এবার হালকা টোকা মারা যা বাকি, ঠিক তখনই শুরু হবে আসল মজা। নাচের ছন্দ বদলে গিয়ে বল বিপক্ষের নাকের ডগা দিয়ে তাদের গোলের কাছে ভাসতে ভাসতে চলে যাবে। তারপর কি যে হবে কেউ জানে না অবশ্য! রাফিনিয়ার মতো অতি ভদ্রলোক কেউ থাকলে বলটা গোলকিপারকেই হয়তো দিয়ে দেবে ফেরত। তবে বলটা যদি কোনোরকমে পড়ে যায় রিচার্লিসনের মতো শিল্পীর সামনে, তাহলে তাকে দেখা যেতেই পারে গোলের জালে জড়িয়ে যেতে।

তবে প্রতিবার যে এরকম হবেই তার কোনো স্থিরতা নেই! কখনো নিজেরাই গোল খেয়ে ফেলবে। তবে খেলাটা উপভোগ করবে নিজেদের মতো করে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে খেলোয়াড়দের উচ্চতা নিয়ে যেটা সার্বিয়ার সাথে খেলাটায় চোখে পড়ল। উড়ে আসা বলের দখল নিতে যে উচ্চতার লাফ দরকার হলো, হেডের দিক দিয়ে চাপের হতে পারে।

তবে নেইমার নাটকটা কম করলে খুশি হবো। প্রতিবার নেইমারকে দেখি যেই বিপক্ষের বক্সে ঢুকতে পারবে, পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে যে করে হোক। এবার দেখলাম যে ব্যাপারটা মাঠ জুড়ে করছে। এটা রাখাল বালকের বাঘ পড়েছে মতো না হয়ে যায়। অবশ্য স্বীকার করতেই হবে যে নেই নেই করেও নেইমার জুনিয়রকে সুযোগ পেলে আঘাত মারতে বাকি রাখেনা বিপক্ষের লোকজন। বোধহয় নামেতেই যে 'মার' শব্দটা রয়েছে, তার কারণে ঘটে আবার নামের মধ্যে 'নেই' থাকাটা প্রেরণা দেয় foul না হলেও পড়ে যাওয়ার!

Friday, November 25, 2022

কাতার quips: Uruguay vs South Korea

নীল বনাম লাল দারুন উপভোগ করলাম। লাল মানে দক্ষিন কোরিয়ার জামার রঙ, নীল হলো উরুগুয়ে দলের জামার রঙ, সাথে হলুদ জামা পরিহিত কোরিয়ার গোলকিপার আর সবুজ রঙের জামায় উরুগুয়ের গোলকিপার, খেলার শুরু থেকেই রঙিন আবহাওয়া। খেলাটা তাই কি এত রঙিন লাগলো?
নুনেজের চকিতে খেলার গতি বাড়ানোর চমক, সন হিয়ুং মিনের পায়ের শিল্প, গোডিনের গোলের সন্ধানে মাঠের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ওঠানামা, কিম সিয়ুং গুয়ের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গোলরক্ষণ, হিমেনেজের (নামের English বানান Gimenez হলেও উচ্চারন করছে হিমেনেজ) সাহসী ট্যাকল পেনাল্টি বক্সের মধ্যে, এর থেকে রঙিন আর কি হবে! হোক না খেলার ফল গোলশূন্য ড্র, যাক না হোয়াঙের পা থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বল পোস্টের উপর দিয়ে, পড়ুক না গোডিনের হেড সাইডবারে আছড়ে, খেলাটা তো হলো খেলার মতো! কাউন্টার অ্যাটাকের গতিময় ফুটবল উপহার দিলো দুই মহাদেশের দুই দল।
সুয়ারেজ বরং তুলনায় ম্রিয়মান থাকলো। যে লোকটাকে দেখলে তার আশপাশের লোকেদের হাত automatically তাদের নিজেদের কানে চলে যাওয়ার কথা, তার নিজের খেলাটাই আটকে দিয়ে যেন কানটাই তার কেটে নেওয়া হল!

Monday, November 21, 2022

কাতার quips: Qatar vs Ecuador

বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীর দল এই মুহুর্তে তাকিয়ে আছে কাতারের দিকে। আমার তো মনে হয় ক্রীড়াপ্রেমী মাত্রে ফুটবলপ্রেমী হতেই হবে (অনেকটা যেন alkali হলেই base হতে হবের মতো!)! কেন? কে জানে, maybe because football is indeed the beautiful game! যাইহোক, পৃথিবীর সবার চোখ যখন কাতারের দিকে, কাতারের গোলরক্ষকের নজর কোন দিকে ছিল কে জানে। কথাটা বলতে হচ্ছে কারণ ভদ্রলোক বিশ্বকাপের প্রথম খেলার প্রথম হাফে বলের গতিপথ সম্বন্ধে কোনোরকমের ভাবনা ছাড়াই যে দাপাদাপিটা করলেন পেনাল্টি বক্সের মধ্যে, তাতে আরো কয়েকটা গোল হলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু ঘটতো না। অভ্যেসটা বদলে ফেলা দরকার, না হলে গোল রক্ষণ তো হবেই না, ভক্ষণ বেশি হয়ে বদহজম হয়ে যাবে।

অন্যদিকে ইকুয়েডর লাতিন আমেরিকার জাদু হালকা করে বুলিয়ে দিল। তিনটে গোল করল, প্রথমটা অফসাইড হয়ে বাতিল হলো বটে আইন অনুযায়ী, কিন্তু ভলি ও হেডের সমন্বয়ে তৈরি গতিময় মুহুর্তটা সেরা আমার কাছে। ভ্যালেন্সিয়ার করা গোলদুটি ইকুয়েডরকে খেলাটা জিতিয়ে দিলো কিন্তু তাদের জাতটা বোধহয় বল নিয়ে ইন্টারসেপশনগুলো চেনালো। তবে কাতার বেশ সহজ প্রতিপক্ষ। সেনেগাল ও নেদারল্যান্ডস পুরো অন্য জিনিস। Hope Ecuador matches their zeal equally well.

কাতারের সমর্থক যারা পুরোটা থাকলো, দেখলাম হাততালি দিয়ে ও গলা ফাটিয়ে দলের পাশে থাকলো। এরকম সমর্থক কিন্তু পাওয়াটা ভার। Hope the Qatar team comes back in style. Viva la football