Showing posts with label 2026. Show all posts
Showing posts with label 2026. Show all posts

Tuesday, June 30, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Brazil vs Japan

What a match!

What drama!

What a beautiful game!

শুরুতে বিপক্ষের থেকে বল ছিনিয়ে সানোর সোলো রানে চোখধাঁধানো গোল। 

তারপর দুর্ধর্ষ ডিফেন্সে ব্রাজিলকে নাস্তানাবুদ করে প্রথমার্ধে গোল করতে না দেওয়া।

পিছিয়ে থেকেও হাল না ছেড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের চেনা আক্রমণাত্মক ছন্দে ফিরে ক্যাসেমিরোর হেড থেকে জাপানকে গোল শোধ।

রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচের ৯০ মিনিটের পরের অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহুর্তে ব্রুনো গিমেরিশের অনবদ্য অ্যাসিস্ট থেকে মার্টিনেলির তেমনি দুর্দান্ত গোলে ব্রাজিলের জয়!

What a relief!

ব্রাজিলের ফ্যান হিসেবে বলছি যে এই দ্বিতীয়ার্ধের ভয়ঙ্কর সুন্দর খেলাটাই ব্রাজিলের থেকে চাই..... আর ফুটবলের ভক্ত হিসেবে বলব এইরকম ম্যাচ দেখতেই তো চার বছর অপেক্ষা করি।

আশা রাখব যে পরের যে খেলাগুলো দেখব, এর থেকে কম রোমাঞ্চকর হবে না!

জাপানের বিদায়টা বীরের মতো হল, ব্রাজিলের আরো দুটো অবধারিত গোল হয়তো হল না, কিন্তু খেলাটা যা দেখলাম, যথেষ্ট উপভোগ করলাম, আশায় রইলাম!

Thursday, June 25, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Scotland vs Brazil

একটাই ভুল করেছিল স্কটল্যান্ড সাত মিনিটে। কিন্তু তাকে কনভার্ট করতে ভিনিশিয়াস জুনিয়র কোনো ভুল করেনি আদৌ। তাই ব্রাজিল এক গোলে এগিয়ে থাকল শুরুতেই। অবশ্য তারপরেও একটা গণ্ডগোল হয়েছিল হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগে। আবার ভিনিশিয়াস জুনিয়র, আবার গোল, কিন্তু প্রযুক্তি এবার স্কটল্যান্ডের সহায় ছিল বলে গোলটা নাকচ হয়!
কিন্তু তারপর কি হল দলটার?
বাকি প্রথমার্ধ তো স্কটল্যাণ্ডই রাজত্ব করল মাঠ জুড়ে।
কোথায় ব্রাজিল?
কি ডিফেন্সিভ লাগল দলটাকে!
যদি এই সময়ে জার্সি বদল করত দুই পক্ষ তো কে ব্রাজিল বোঝাটা হয়ত মুশকিলই ছিল দর্শকের কাছে!
খারাপ লাগছিল তাই স্কটল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে আরেকটা গোলে পিছিয়ে যেতে দেখে। এটা অনস্বীকার্য যে খেলার প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে খুব একটা আক্রমণাত্মক লাগেনি। তার বদলে অ্যাংগাস গানের অতিরিক্ত সময়ের স্কটল্যাণ্ডের হয়ে গোল সেভটা মনটাকে যেন বেশি ভরিয়ে রাখল!
চেনা ছন্দটা অবশ্য ব্রাজিলের মধ্যে ফিরে পেলাম পরের দিকে। পুরনো আক্রমণাত্মক ভঙ্গীটা দ্বিতীয়ার্ধে দেখাল দলটা। পাওনা হল ব্রুনো গিমেরিশের অসাধারন অ্যাসিস্ট থেকে করা কুনহার গোল আর সাথে তিনটে অনবদ্য সেভ করে Alisson ভরসা জোগাল কিছুটা।
তবে এবার তো নক আউট স্টেজ, এবার ছোটোখাটো ভুল হলেও বিদায় নিতে হবে। আশাকরি আনচেলোত্তি বুঝেশুনেই স্ট্র্যাটেজি নেবে। হতেই পারে যে আস্তিনের তলায় আরো কিছু তাস আছে, ধীরে ধীরে বেরোবে।
ব্রাজিল নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের স্টেজে যাচ্ছে। তাই বিজয়ীদের মতই আচরণ দেখতে চাই তাদের থেকে। কারণ দলটা যে ব্রাজিল আর খেলাটা..... ফুটবল!
শুভেচ্ছা রইল।

Saturday, June 20, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Brazil vs Haiti

বেশিদূর এগোনো মুশকিল আছে এরকম খেললে!
ব্রাজিলের কথা বলছি।
এই যদি হাইতিকে নিয়ে হাল হয়, তো আরেকটু শক্তিধর বিপক্ষ হলে তো হয়ে গেল গল্প!
না না, খেলার স্কোর দেখে কিছু বোঝা যাবে না।
ব্রাজিল ৩ গোলে জিতেছে, বিপক্ষকে একটাও গোল করতে দেয়নি, এসব ভেবে লাভ নেই! দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটা দেখে বেশ দুশ্চিন্তাই লাগছে দলটার জন্য।
আগের ম্যাচে মরক্কো তো দেখিয়ে দিয়েছে কি করে ব্রাজিলকে গোল দেওয়াও যায় আর খেলাটা ড্র রাখাও যায়। তার উপর রাফিনিয়ার চোট। নেইমারও চোটে বসে, লোকটার যতই মাঠে নেমে নাটক করার বদভ্যাস থাকুক না কেন, এমন মাপের skillful player কমই আছে। এই কারনেই দলটার চাপ আছে।
এই বিশ্বকাপে পর্তুগালকে আটকে দিয়েছে কঙ্গো, স্পেনের আক্রমণকে রুখে দিয়েছে কাবো ভার্দের মতো এক অনামি দেশ। এদের মতো দুর্ধর্ষ রক্ষণ তো হাইতির ছিল না, ব্রাজিল তবুও প্রায় কিছুই করতে পারেনি বলব।
ভিনিশিয়াস জুনিয়র একমাত্র, যে কিছু আক্রমণ শানাতে পারছিল left wing থেকে, ডানদিকটায় জাস্ট কোনো ধার নেই দলটার। তবে কুনহার গোলদুটো দেখে একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি, এরকম সুযোগসন্ধানী কোনো ফিনিশার থাকলে, অন্তত পেনাল্টিবক্সে বল গেলে কিছু একটা হতে পারে! এরকম একজনের অভাব টের পাচ্ছিলাম ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচটাতে! আজকে খানিকটা তবু শান্তি পেলাম কুনহার গোল করার ক্ষমতা দেখে। এরপর কাউকে পাওয়া না গেলে আবার ম্যাচ দেখতে আসা রোনাল্ডো আর রোনাল্ডিনহোকেই না মাঠে নামতে হয়! বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের প্রথম অন্য দেশের কোচ, ইতালির কার্লো আনচেলোত্তি এরকম কিছু ভেবে বসলে খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু লাগবে না মনে হয়। দলটার হাল ফেরাতে কিছু তো একটা করা দরকার তাড়াতাড়ি করে।

Sunday, June 14, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Brazil vs Morocco

ব্যাপারটা হল যে এই খেলাটার একটা তাৎপর্য আছে।
ফিফার এই মুহুর্তের র‍্যাংকিং অনুযায়ী ব্রাজিল ছয়ে আর মরক্কো সাতে! তাই দলের ভিত্তিতে বলতেই পারা যায় যে এই খেলাটা একটি হাড্ডাহাড্ভি লড়াইয়ের চেহারা নেবে। আসলে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে এটাই একমাত্র খেলা যেটাতে ফিফার ক্রমতালিকায় থাকা প্রথম দশের দুটি দল নিজেদের মধ্যে খেলছে!
অনিবার্যভাবে এই ম্যাচটা তাই অনেকেই মুখিয়ে থাকবে দেখার। তাই খেলাটা শুধুমাত্র শারীরিক দক্ষতার মধ্যেই সীমিত নয়, লড়াইটা বেশ অনেকটাই স্নায়বিক হতে বাধ্য!
তাই ব্রাজিলের অন্ধ সাপোর্টার হলেও বলব, ঠিক এই জায়গাটাতে ম্যাচে মরক্কো জিতে গেল। ম্যাচ শুরুর প্রথম থেকেই যে আক্রমণাতক ভঙ্গিতে ব্রাজিলকে চেপে ধরেছিল মরক্কো যে বেশ অনেকক্ষণ ল্যাটিন আমেরিকার দলটি নিজেদের হাফেই থেকে যাচ্ছিল।
মরক্কোর দলটাকে বলা হয় অ্যাটলাস লায়নস। খেলাটাতে এই সিংহদের দাপট সাম্বার ছন্দটাকে যথেষ্ট মৃয়মান করে দিল। যেভাবে তারা ব্রাজিলকে নিজেদের অর্ধেই ব্যাকপাস করতে বাধ্য করাচ্ছিল যে ভয় হচ্ছিল কখন না তাদের গোলকিপার অ্যালিসন নিজের এত পাস রিসিভ করতে করতে অভ্যাসের বসে নিজের গোলেই না ব্যাকপাস করে ফেলে!
যাই হোক, এরকম কিছু কাণ্ড হয়নি, কিন্তু ব্রাজিলের খেলা একটুও মন ভারতে পারেনি অবশ্যই। ছোটো ব্যাকপাস তো তাও যার কাছে যাওয়ার যাচ্ছিল। কিন্তু লং পাসগুলো? কি বিচ্ছিরিভাবে দিকভ্রান্ত লাগছিল। জানিনা এদের আস্তিনের তলায় কি তাস আছে, এরকম খেললে কিন্তু ভবিষ্যতে যথেষ্ট চাপ! তার উপর ফাউলের ছড়াছড়ি। এবারের দলটাকে কিন্তু এখনও পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো ছন্নছাড়া লাগছে।
অন্যদিকে মরক্কো এক অসাধারন ভারসাম্যে ভরা খেলা উপহার দিল। তাদের গোলটা তো এককথায় অনবদ্য। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাইবারির গোলটা যেকোনো ফুটবলারের স্বপ্নের গোল হবে। এরকম বুদ্ধিদীপ্ত গোলের একমাত্র কাছাকাছি তকমা হচ্ছে পানেনকা শট্, যদিও এই বিশেষ উপমাটা পেনাল্টির ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য!
তবে ব্রাজিলের গোলটাও অসাধারন লেগেছে। নিজের পঞ্চাশতম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র এই গোলটা দিয়ে ব্রাজিলের উপর ভরসাটাকে একেবারে কমতে দিল না, মানতে হবে! তার সাথে Raphinha দেখাল গোলের জন্য বল বানানোর কৌশল। এই দুটোই ব্রাজিলভক্ত হিসেবে পাওনা। বাকি যা থাকে তো সময় বলবে!

Saturday, June 13, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: USA vs Paraguay

USA প্রথম গোলটা দেয়নি, প্যারাগুয়ে দিয়েছে..... own goal!

মার্কিনীদের করা দ্বিতীয় গোলটাও নাকচ হয়ে গেল..... offside বলে!

কিন্তু আসল দ্বিতীয় গোল, যেটা ওই নাকচ হওয়া গোলটির গোলদাতা, ব্যালোগানই করলেন, তার স্মৃতি ম্লান হয়ে যাবে গোলটার পিছনে করা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের চমকদার assist দেখে। একেই বোধহয় বাংলায় মাইনাস করা বলা হয় খেলাতে। এই গোলটির কারিগর, পুলিসিক, দলটির ক্যাপ্টেন, এবং প্রকৃতই ফ্যানেদের দেওয়া Captain America উপাধির যোগ্য বাহক!

অবশ্য ব্যালোগান এরপরে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল করেন এবং সেটিও just awesome.

প্যারাগুয়ের পক্ষে একমাত্র গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে কিন্তু তার প্রতিফলন খুব একটা কিছু হয়নি ম্যাচটির প্রধান চরিত্রে, উপরন্তু এই গোলটির কারনে গোল ব্যবধান কমলেও, তাকে আবার একই ব্যবধানে ফিরিয়ে আনল রাইনার করা আরেকটি চমকপ্রদ গোল, দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে।

মার্কিনীরা নিজের দেশে বিশ্বকাপ হলে প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয় ওঠে। এই কথাটা ব্রাজিল হাড়ে হাড়ে বুঝেছিল ১৯৯৪ সালে। আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ব্রাজিল জিতেছিল ঠিকই, কিন্তু ফাইনালে ওঠার পথের প্রথম নক আউট ম্যাচটা বের করতে প্রচণ্ড চাপে পড়েছিল আমেরিকা দলটার কাছে! এবার আমার ধারনা এই দলটা এবার যে চ্যালেঞ্জটা দিচ্ছে, তাকে হালকাভাবে নিলে প্রতিপক্ষরা অবশ্যই ভুল করবে।

আরেকটা ভুল অনেকেই এবারের বিশ্বকাপে করলে চাপে পড়বে - মাঠের মধ্যে বেশি নাটক করলে! এবার যদি কোনো প্লেয়ার দুমদাম পড়ে যায়, এই ব্যাপারটা বিচার করার জন্য জম্পেশ ব্যবস্থা আছে। মাঠে এবার গুছিয়ে টিভির ব্যবস্থা আছে রেফারির জন্য, তিনি নাটক ঘটলে দেখবেন এবং মনে করলে, না না অস্কার নয়, হলদে, লাল কার্ড দেখিয়ে অভিনেতাকে পুরস্কৃত করবেন সাথে সাথে। এই ম্যাচটা তাই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতেই কেউ প্রথমবারের জন্য mistaken identity বিভাগে হলুদ কার্ড দেখল। প্যারাগুয়ের আগুয়ান মিগুয়েল আলমির্ন পড়ে গেলেন খেলা চলতে চলতে। রেফারি ভাবলেন বোধহয় টিম রিম ফাউল করেছেন পাশ থেকে। তিনি রিমকে হলুদ কার্ড দেখালেন সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু বাদ সাধল প্রযুক্তি! টিভিতে রেফারি বুঝতে পারলেন পড়ে যাওয়াটা নাটক ছিল। পরক্ষণেই রিমের শাস্তি নাকচ আর প্যারাগুয়ের অভিনেতাটির হলুদ কার্ড।

একইদিনে গোল নাকচ, শাস্তি নাকচ। প্রযুক্তির কাছে খেলা, গতি হয়তো খানিক থমকে যাচ্ছে, কিন্তু ন্যায়টা যে হচ্ছে, এটাই আমার কাছে দারুণ ব্যাপার।

তাই সাবধান, ময়দানটা কিন্তু খেলার।

খেলাটাই স্টেজ মাতাবে, অভিনয় করলে শুধু ঠকবে।

Friday, June 12, 2026

মতামত, কচকচি, উল্লাস @ Mexico Canada USA: Mexico vs South Africa

মেক্সিকান ওয়েভ তো আমরা খেলার মাঠে গ্যালারিতে দেখি। সাউথ আফ্রিকার ফুটবল দলটা দেখল খেলার মাঠে, আর সেই ঢেউয়ের দাপটে স্রেফ যেন ভেসে গেল তারা! সাথে অবশ্য দোসর ছিল কিছু বিশ্রি ফাউলের যোগ, যার বদান্যতায় নিট্ ফল মেক্সিকোর ২ গোল আর সাউথ আফ্রিকার ২টো রেড কার্ড। অবশ্য বাজে ফাউল করার ছোঁয়াচ থেকে মেক্সিকো দলটাও শেষমেশ বাঁচতে পারেনি। তাই তারাও ইনজুরি টাইমে ১টা রেড কার্ড দেখে কিছুটা সান্ত্বনা পেল বইকি।
খেলাটার ফল অবশ্য মেক্সিকোর পক্ষে ৪ গোলও হতে পারত, কিন্তু হলো না সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক ও দলটার গোলরক্ষক, উইলিয়ামসের কিছু দুর্দান্ত সেভের কারনে। তাই কুইনোনেসের প্রথম গোলটার পর জিমেনেজকেও দ্বিতীয়ার্ধে করা ১টা গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো মন জয় করে নিলেও সাউথ আফ্রিকার খেলার ধরনটা খানিক বদলাতে না পারলে তাদের সমর্থকদের হতাশ হওয়াটা অবশ্যম্ভাবী! এই খেলাটাতে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ছিলেন এই বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ প্লেয়ার, মেক্সিকোর ১৭ বছরের একটু বেশি বয়সি গিলবার্তো মোরা, কিন্তু নজরটা অবশ্যই কাড়ল রাউল জিমেনেজের সুযোগসন্ধানী পায়ের খেলাটা!