Showing posts with label Samragni Bandyopadhyay. Show all posts
Showing posts with label Samragni Bandyopadhyay. Show all posts

Thursday, April 30, 2026

ঠাকুমার ঝুলি: রহস্যের অলিগলি

শ্রাবন্তী এবার গোয়েন্দা চরিত্রে!

ঠাকুমাও বটে!

ঝুলি থেকে তো বেড়াল বেরোয়।


কিন্তু এই ঠাকুমার অন্য ঝুলি..... ঝুলি তো নয়, যেন বুদ্ধির ঝাঁপি!

তবে শুরুটা হয়েছিল বেড়াল দিয়েই।

হয়েছে কি, ঠাকুমা তো বিয়েবাড়ি গেছেন নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে। নাতনীর বন্ধুর বিয়ে। কনে বিলেত ফেরত, নাতনীও তাই! কনে বিষ্ণুপুরের নামকরা চৌধুরীবাড়ির মেয়ে। কিন্তু বিয়েবাড়িতেই কনে খুন!

অবশ্য খুনটা কেউ বোঝেনি! শুধু ঠাকুমা পোস্টমর্টেমটা করতে বলল বলেই তো জানাটা গেল, অবশ্য কনের মায়েরও সায় ছিল! কিন্তু এই করেই তো ঠাকুমা বিপদটা ঘরে ডেকে আনলেন। আরেকটা খুন হলো!

হরি! ঠাকুমার বেড়াল। বেলা আর ফণ্টের মা! পোষ্যদের নাম রাখার ধরনেই স্পষ্ট যে এই ঠাকুমা যে সে ঠাকুমা নন। প্রিয় গায়ক, হ্যারি বেলাফন্তের নাম ভেঙে বিড়ালদের নাম! কে রাখে? গিরিজাবালা দেবী, মানে আমাদের ঠাকুমা রাখেন!

কিন্তু নামের কথা পরে হবে! এবার খুনের কথায় আসি!

ঠাকুমা তো খুন সন্দেহ করলেন বিয়েবাড়ির কাণ্ড দেখে। এদিকে খুনি গেল ঘাবড়ে। সে তখন ঠাকুমার আদরের হরিকে খুন করিয়ে তার মৃতদেহের সাথে একটা হুমকি চিরকুট পাঠাল। কিন্তু এইখানেতেই তার হয়ে গেল মস্ত ভুল।

সম্মুখ সমরে নেমে পড়লেন ঠাকুমা। অবশ্য ঠাকুমাই সম্মুখে, খুনি আড়ালে! কিন্তু ঠাকুমার যা পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, খুনি আর কতক্ষণ আড়ালে থাকবে? নিজের শ্বাশুড়ির কাছ থেকে গিরিজাবালা পেয়েছিলেন গোয়েন্দা সার্টিফিকেট, আর তিনি নিজে গোয়েন্দা লেখকের মা, যে ছেলে তার মায়ের আদলেই সৃষ্টি করেছিল তার গোয়েন্দা চরিত্র!

এমন মহিলাকে যে ঠকানো বেশ কঠিন! সাথে আবার অকুতোভয় নাতনী, আর তার সাথে এক ভালোমানুষ সাংবাদিক, উঠতি এবং বেশ অপেশাদার! স্থানীয় পুলিশ অফিসার তো আছেই, তবে ভরসা করার মতো নয় খুনিকে চিনে বের করতে!

এই শেষ চরিত্রটিকে নিয়ে এবার একটা কথা বলে ফেলি বরং এই ময়কায়। এই গোটা রহস্যেঘেরা ধটনাকে হালকা একটা মজার মোড়কে মুড়ে রাখার কৃতিত্বটা যেমন একাধারে সম্রাজ্ঞী বন্দোপাধ্যায়ের কলমের ও অয়ন চক্রবর্তীর পরিচালনার, ঠিক তেমনি যে কয়েকটি অভিনেতা এই মজাটাকে পুরো গল্পটাতে চারিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জি অভিনীত পুলিশ অফিসারের চরিত্রটি। কৌতুকে মোড়া এই অনবদ্য চরিত্রটিকে যখন দেখছিলাম, তার পরেপরেই শুনতে পেলাম যে এই ভদ্রলোককে আর নতুন কোনো চরিত্রে দেখতে পাবো না। মনটা খারাপ হয়ে গেছিল! রাহুল এই সিরিজটার মুখ্য চরিত্র না হলেও মুখ্য এক ভারসাম্য রক্ষা করে কাহিনীটিকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন! এই প্রাণোচ্ছল কৌতুকের মধ্যে দিয়েই তাঁকে মনে রাখব!

কৌতুকের আরেকটি স্তম্ভ হলো দেবরাজ ভট্টাচার্য! তবে শ্রাবন্তীও অসাধারণ। এত বয়স্কার অভিনয় খুব সহজ ছিল না কিন্তু! তাই এই চেষ্টাটা অবশ্যই প্রশংসনীয়, সাহসী এবং যথেষ্ট পরিণত! চরিত্রটাকে একইসঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন অভিনেত্রী! সাথে অঙ্কিতা মাঝিও সুনিপুণ বিশেষ এক চরিত্রে আর দিব্যাণী মণ্ডলকেও মানিয়ে গিয়েছে ঠাকুমার নাতনি-cum-সহকারী হিসেবে। সহজ ছন্দে চলা এই কাহিনীটি তাই সকলের কাছেই লাগতে পারে বেশ উপভোগ্য!