ফিফার এই মুহুর্তের র্যাংকিং অনুযায়ী ব্রাজিল ছয়ে আর মরক্কো সাতে! তাই দলের ভিত্তিতে বলতেই পারা যায় যে এই খেলাটা একটি হাড্ডাহাড্ভি লড়াইয়ের চেহারা নেবে। আসলে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগে এটাই একমাত্র খেলা যেটাতে ফিফার ক্রমতালিকায় থাকা প্রথম দশের দুটি দল নিজেদের মধ্যে খেলছে!
অনিবার্যভাবে এই ম্যাচটা তাই অনেকেই মুখিয়ে থাকবে দেখার। তাই খেলাটা শুধুমাত্র শারীরিক দক্ষতার মধ্যেই সীমিত নয়, লড়াইটা বেশ অনেকটাই স্নায়বিক হতে বাধ্য!
তাই ব্রাজিলের অন্ধ সাপোর্টার হলেও বলব, ঠিক এই জায়গাটাতে ম্যাচে মরক্কো জিতে গেল। ম্যাচ শুরুর প্রথম থেকেই যে আক্রমণাতক ভঙ্গিতে ব্রাজিলকে চেপে ধরেছিল মরক্কো যে বেশ অনেকক্ষণ ল্যাটিন আমেরিকার দলটি নিজেদের হাফেই থেকে যাচ্ছিল।
মরক্কোর দলটাকে বলা হয় অ্যাটলাস লায়নস। খেলাটাতে এই সিংহদের দাপট সাম্বার ছন্দটাকে যথেষ্ট মৃয়মান করে দিল। যেভাবে তারা ব্রাজিলকে নিজেদের অর্ধেই ব্যাকপাস করতে বাধ্য করাচ্ছিল যে ভয় হচ্ছিল কখন না তাদের গোলকিপার অ্যালিসন নিজের এত পাস রিসিভ করতে করতে অভ্যাসের বসে নিজের গোলেই না ব্যাকপাস করে ফেলে!
যাই হোক, এরকম কিছু কাণ্ড হয়নি, কিন্তু ব্রাজিলের খেলা একটুও মন ভারতে পারেনি অবশ্যই। ছোটো ব্যাকপাস তো তাও যার কাছে যাওয়ার যাচ্ছিল। কিন্তু লং পাসগুলো? কি বিচ্ছিরিভাবে দিকভ্রান্ত লাগছিল। জানিনা এদের আস্তিনের তলায় কি তাস আছে, এরকম খেললে কিন্তু ভবিষ্যতে যথেষ্ট চাপ! তার উপর ফাউলের ছড়াছড়ি। এবারের দলটাকে কিন্তু এখনও পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো ছন্নছাড়া লাগছে।
অন্যদিকে মরক্কো এক অসাধারন ভারসাম্যে ভরা খেলা উপহার দিল। তাদের গোলটা তো এককথায় অনবদ্য। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাইবারির গোলটা যেকোনো ফুটবলারের স্বপ্নের গোল হবে। এরকম বুদ্ধিদীপ্ত গোলের একমাত্র কাছাকাছি তকমা হচ্ছে পানেনকা শট্, যদিও এই বিশেষ উপমাটা পেনাল্টির ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য!
তবে ব্রাজিলের গোলটাও অসাধারন লেগেছে। নিজের পঞ্চাশতম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র এই গোলটা দিয়ে ব্রাজিলের উপর ভরসাটাকে একেবারে কমতে দিল না, মানতে হবে! তার সাথে Raphinha দেখাল গোলের জন্য বল বানানোর কৌশল। এই দুটোই ব্রাজিলভক্ত হিসেবে পাওনা। বাকি যা থাকে তো সময় বলবে!
No comments:
Post a Comment