Friday, April 7, 2023

Gaslight: Where suspense reigns while secrets overwhelm!

Saw Gaslight, streaming in Disney+ Hotstar. Apparently advertised as a Sara Ali Khan starrer spine chiller, undoubtedly Vikrant Massey steals the limelight. With his naturally naive looks, there can be no other artist better suited for the role than Massey with his deceptive demeanour. He is truly the best thing to watch in this film. Chitrangada Singh also plays her part well and looks convincing throughout, maintaining the veil of secrecy that the film demands.

Secrecy seems to be the theme of the story and the majority of the characters seem to harbour something, hidden from others. Strange happenings increase the suspense and twists in the plot keeps the interest growing.

A princess is invited home by her father, the king, whom she hates! But when the time comes for the arrival of the estranged daughter, the father goes missing! Reportedly on a business trip, his phone is unreachable and nobody seems to know where he has actually gone. Surprisingly, the residents of the royal palace, including the queen seems less bothered. The police, too, is apparently not too keen to investigate. The paraplegic princess, thus returning home, finds herself surrounded by mostly strangers and the stepmother, the queen, whom she very naturally despises. Her state of mind is even more shaken as she is haunted apparently by visions of her father in the mansion in the nights that not only questions her sanity but also brews doubts as to the whereabouts of the king, who had still remained untraceable!

Directed by Pavan Kirpalani, the mystery, which is brewed, is though old and almost predictive, would still have been enjoyable, if all the doubts raised, by the very nature of the storyline was clarified as the case is wrapped and the truth revealed.

But nonetheless, this Vikrant Massey powered show is augmented in suspense by the art decor of Apurva Bhagat and Ashish Naik and the touch ups by Avinash Pawar. So, the audience might immerse themselves in the haunting charm of royalty in ruins but will be advised to not wish for a wholesome entertainment!

Saturday, March 4, 2023

'ডাকঘর' একঘর

গ্রাম: হাগদা

পোস্টমাস্টার: দামোদর দাস

গুজব: ডাকঘরটি ভূতুড়ে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাথরুমে সাপ, পোস্টবাক্সে পাখির বাসা আর গাছের তলায় মোবাইলের সিগন্যাল!

তো এরকম উদ্ভট পরিস্থিতি যেখানে সেখানে মৃত পোস্টমাস্টারের জায়গায় তার ছেলে চাকরিতে বহাল হলে, গ্রামের বাইরে থেকে আসা অচেনা যুবকটিকে সহজ সরল লোকজনেরা যে ভূতের ছানা জাতীয় সম্বোধন করে আপন করে নিতে চাইবে, এটা আর কি এমন বড় ব্যাপার হল? এসব ব্যাপারে মাথা ঘামালে কি দামোদর এক বছর ধরে জমা থাকা চিঠিগুলো বিলি করতে পারবে? নাকি পারবে তার বড়বেলার কষ্টটাকে ভুলে ফেলতে? সে কি শুধু এখানে চাকরি করতেই এসেছে? নাকি এসেছে হারানো কিছু ফিরে পাওয়ার অদম্য তাড়নায়!জানতে হলে তো উপায় একটাই, হইচই খুলে বসে পড়ুন এখনই ও গা ভাসান সিরিজটির সাত পর্বের সাতরঙা আবেগের জোয়ারে। জানলার আটকে থাকা পাল্লা খুলে হাতে চলে আসুক, কোয়ার্টারে মানুষ থাকবে না ছাগলের জন্য রাখা হবে - তাই নিয়ে চলুক তর্ক, সম্বর্ধনার চেয়ার ভেঙে পড়ুক সম্বর্ধিত ব্যক্তিসমেত হুড়মুড়িয়ে, যমজ ভাই সরকারি চাকরি করুক অন্য ভাইয়ের নামে প্রক্সি দিয়ে, যা খুশি হোক, আপনি শুধু তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করুন মুহুর্তগুলো গুছিয়ে!

পদ্মনাভ দাশগুপ্তের কলমে ও সুহোত্র মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ের জাদুতে পুষ্ট এই কাহিনী দেখে কোন দর্শক বলে দেখি যে বাঙলা ধারাবাহিক জাতে ওঠে নি?

অবশ্য, আমি বলেছিলাম প্রথমদিকটা দেখে এবং পুরোটা দেখে কথাটা পাল্টে ফেলে বলছি যে এরকম সিরিজ আরো হোক। কিছু অতি সরলীকরণের জায়গাগুলো অন্যভাবে চিন্তা করে যদি আরো বাস্তবসম্মতভাবে পরিবেশন করা হয় তবে এই সিরিজগুলি হয়ে উঠবে আরো পরিণত এবং এরকম সাধারন ঘটনা দিয়ে গড়া গল্প যত বেশি করে শুধু চিন্তাভাবনা ও পরিবেশনের গুণে অসাধারন হয়ে উঠবে, তবেই, আমার ধারনা, বাঙলা সিরিজ বিশ্বজনীন হয়ে উঠবে।

সিরিজটির পরিচালক হিসেবে কাকে ধন্যবাদ জানাবো ঠিক বুঝতে পারছি না, পড়েছি যে কিছু জটিলতা আছে। তবে অভিষেক সাহা ও অভ্রজিৎ সেন - দুজনের থেকেই এমন আরো অনেক ধারাবাহিকের প্রত্যাশা রইল। এরপর আসি চিত্রগ্রহণে, সেটাও অনবদ্য আর সেখানেও জটিলতা। তাই মৃন্ময় নন্দী ও শান, দুজনকেই ধন্যবাদ জানালাম।

Monday, February 27, 2023

Farzi: Crime pays..... but dearly!

When the system stifles the oppressed, corruption leaks! But when that blends with skill, artists emerge. Fooling the people with their sly craft, they soon become the coveted prizes for the greedy as well the police.
Sunny is a skilled artist, abandoned by his father and raised by his maternal grandfather, his beloved Nanu. Nanu also took under his umbrella, the homeless and family less Firoz, both on their early childhood. Firoz was a street boy, who befriended Sunny at the time his father abandoned him. They grew together as Nanu raised them and bonded as brothers more than as friends. Their Nanu had a small press that published a daily, a dream that Nanu pursued to revolutionise society through his writing. Alas, ideas remain but funds and well wishers dry up. That was what happened to the press and suddenly Nanu was distressed to find the press in financial crisis. Situation worsened as loans piled up while time to repay the debts ran scanty. Desperation ran high while resources were limited. But just as necessity breeds invention, need of money, this time, bred counterfeits. The artist in Sunny designed the notes while the technician in Firoz implemented them. Though the initial batch was a failure bur a quick revision soon brought fruit. Clients were found in the underworld and profit was amassed. The loan was easily repayed and the press saved.
But the tale of the twisted mind was yet to begin as money was raining in quickly. Sunny, tasting blood in the fortune amassed, wanted to continue. Clients were already in the queue, infrastructure was already built, but there was Nanu too! Any inkling of the ill practice and he will be heartbroken! But again fate played a strange twist. Nanu contracted a threatening disease of memory loss and Mansoor appeared with promises of further fortune. Mansoor was a high rolling flamboyant international kingpin of the counterfeit business. So police was obviously on his trail. But the ambitious Sunny seemed least bothered about that. Thus, as stakes ran high, so did the risks. With Firoz trying to bring sense to Sunny, police hot on the trail to trap them and Mansoor rolling the dice of life, it remains to be seen what climax the series presents.
With a slower start at the beginning that gathers pace from episode 5 onwards, the crime drama is a must watch. Not only because the drama is intense but there is a promise for a future that will be top of the class if the tone remains uncompromised in the season that must follow.
Debuting in his OTT appearance, Shahid Kapoor acts but sometimes feels a bit off the mark. Hope he proves convincing throughout in the follow ups. Amol Palekar plays his low profile part to perfection and supports the stage for the young brigade with maturity! But the best three roles are played by Bhuvan Arora, Kay Kay Menon and Vijay Sethupathi, presenting their respective portrayals to perfection. Arora plays the faithful friend with a heart, Menon is the coldly unmerciful criminal while Sethupathi sets his heart as the stubborn law enforcer with his crusade to bring down the racket he is after. But what separates them from the others are the realistic touch sprinkled with natural relief that they infuse in the characters that eases out tensions as they heighten yet keeps the perspective gripping. Raj and D K directs this action packed drama that shares a character with The Familyman, a surprising yet appropriate insert, giving the required touch of gifted espionage while winding up in a cliffhanger that promises at least another session of redemption and revenge in the coming years!

Sunday, January 29, 2023

করবে কাবু একেনবাবু!

একেনবাবু কলকাতায় এলেন.... অপরাধ দেখলেন..... সমস্যার সাথে সাথে দর্শকদের মনও প্রায় জয় করে ফেলেছিলেন, কিন্তু বাদ সাধল শেষটুকু! অবশ্য এরকম কর বলাটা হয়তো ঠিক হচ্ছে না, অভিযোগটা হতেই পারে একান্তই আমার ব্যক্তিগত মত। তাই আগে বরং বলে নেওয়া যাক মনকাড়া প্রসঙ্গগুলোর সম্বন্ধে।

প্রথমেই প্রশংসা করতে হয় গল্পগুলোকে সমস্ত বয়সের উপযোগী করে তোলার প্রয়াসটাকে। যেখানে বহু সিরিজ ওটিটির সেন্সরশিপের বাইরে থাকার সুবিধাটাকে হাতিয়ার করে অকারণ অকথ্য ভাষা ও কয়েকটি অস্বাভাবিক রুচির দৃশ্য ঢুকিয়ে বেকার সীমিত সংখ্যক লোকজনের দেখার জন্য পরিবেশন করছে, সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক প্রসঙ্গের সম্ভাবনা দেখলেই তাকে সুচারুরূপে সমস্ত বয়সের উপযোগী করে পরিবেশন করার সাহসী এবং সংযমী প্রয়াসকে সেলাম। প্রতি কাহিনীতে ধারাবাহিকভবে ব্যাপারটাকে ধরে রাখার চেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।

এরপর অভিনয়। এতদিনে অনির্বাণ চক্রবর্তী তো একেনবাবুর সাথে প্রায় সমার্থক হয়ে গেছেনই রুপোলী পর্দায়, কিন্তু এবার, সুহোত্র মুখোপাধ্যায় ও সোমক ঘোষ যথাক্রমে বাপীবাবু ও প্রমথবাবু চরিত্রদুটিকে আরো স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত করে ফুটিয়ে তুলে চক্কোত্তিবাবুকে ছাপিয়ে গেছেন! সুহোত্র ও সোমক একেনবাবু সিরিজে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করে জমিয়ে যুগলবন্দী পরিবেশন করলেন। চরিত্রদুটিতে অভিনয় করা পূর্বতন অভিনেতাদের ছোটোপর্দায় অভিনয়কে ছোটো না করেও বলছি, নতুন এই জুটি সত্যিই অনবদ্য! অবশ্য বড়পর্দায় একেনবাবু ছবিতে এই দুজন আগে এই চরিত্রদুটি করে তারপর সিরিজে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাই যেন সিরিজে দুজনে এত সাবলীল, এত মজাদার! তার সাথে শুভ্রজিৎ দত্ত ও বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী দুটি ছোটো অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে জমিয়ে দিয়েছেন। চরিত্রদুটি ছোটো দৈর্ঘ্যের হলেও, মূল রহস্যের গাম্ভীর্যকে এতটুকু না কমিয়েও হাসিঠাট্টা মেশানো কিছু টাটকা মুহুর্ত উপহার দিয়েছেন। তার সাথে আছেন লোকনাথ দে। ভদ্রলোককে 'মন্দার' থেকে দেখছি যে পর্দায় উপস্থিতির প্রতিটি ক্ষণকে কি এক জাদুতে অসামান্য করে তোলেন, শুধুমাত্র অভিব্যক্তি দিয়ে।

কিন্তু এত করেও সমস্যাটা তাহলে কি হল? সমস্যাটা দেখতে পেলাম গোয়েন্দার সত্ত্বাতে। অপরাধীকে ধরতে গোয়েন্দাকে হতেই হবে কঠিন, প্রয়োজনে রূঢ়, কিন্তু অপরাধীর অসহায়তাকে কি করে অস্বীকার করবে? কি করে অপরাধীকে ধরিয়ে দেওয়ার পরেও অসহায়তাকে নিয়ে খরচ করবে না কোনো মুহুর্ত। কাহিনীকার কি লিখে গেছেন জানি না, তবে পরিচালক হিসেবে জয়দীপ মুখার্জ্জীবাবু ভেবে দেখতে পারেন। না হলে ব্যোমকেশ, ফেলুদা, কিরীটি তো কোন ছাড়্, গোয়েন্দা অর্জুনও অনেকটা এগিয়ে থাকবে। উচ্চমানের সত্যসন্ধানী উচ্চ মনের অধিকারী হলে তবেই হৃদয়ে থেকে যাবে।

Sunday, December 11, 2022

কাতার quips: Croatia vs Brazil

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে হেরে এবারের মতো ছিটকে যাওয়াতে মনটা বেশ খারাপ হয়ে আছে!
খেলার ব্যাপারে লেখা থেকে কিছুদিনের জন্য হলেও এবার তাই সাময়িক বিরতি!

Friday, December 9, 2022

কাতার quips: Morocco vs Spain

জয়টা মনে হলো স্পেনের হাত থেকে ছিনিয়ে নিলো মরক্কোর একরোখারা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের একমাত্র অঘটনটা কিন্তু তারাই ঘটালো। তবে অঘটন বলি কি করে! খেলায় অঘটন তো বলা হয় যখন কোনো দল তাদের থেকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়! কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে মরক্কোর খেলা দেখে স্পেনের তুলনায় মরক্কোকে কি কিছু কম শক্তিশালী মনে হচ্ছিল? গোটা ম্যাচটা জুড়ে যা ডিফেন্স দেখালো ও তার সাথে opportunistic aggression, দলটাকে হালকা করে দেখলে পরে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব! স্পেনের বিরুদ্ধে এই ডিফেন্স দেখে আমি তো মুগ্ধ! ইতালির ডিফেন্স বিখ্যাত, কিন্তু এবার তাদের সেরা রক্ষনের শিরোপা না হাতছাড়া হয়ে যায়! অবশ্য মরক্কোকে আমার এই দিন বারেবারে স্পেনের মতো লাগছিল, গুলিয়ে যাচ্ছিল। তার কারণ হলো তাদের জামাগুলোর রঙ লালচে। স্পেনের খেলছে আর লাল জামায় সজ্জিত প্রতিপক্ষ - হয় নাকি!
যাইহোক, মরক্কোর যে ভুলটা শোধরানো দরকার, তা হলো গোলের কাছে তাদের পায়ের জোর হারিয়ে ফেলার অভ্যাসটা। যেহেতু এই জোরটা মনের থেকে আসবে, তাই বিপক্ষের কাছে মানসিক যুদ্ধটাতে তাদের জিততে হবে।
তবে স্পেনকে যে তারা চাপে রাখতে চলেছে, তা খেলাটার শুরুর আগে থেকেই মনে হচ্ছিল তাদের দেখে। তিনটে ব্যাপার চোখে পড়লো আলাদা করে।
প্রথমটা হলো, মরক্কোর জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন হাকিম জাইজির মুখটা চোখ বন্ধ অবস্থাতেও কোনো দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। দ্বিতীয় ব্যাপারটা অম্রাবতের পায়ের চোট নিয়ে রক্ষণ সামলানোর জেদ। আর তৃতীয়টা হলো তাদের গোলকিপার বনো। কোনো কঠিন কাজকে খুব সহজে করে ফেললে, ব্যাপারটাকে হাসতে হাসতে করে ফেলল বলে। বনোকে দেখে ঠিক এটাই মনে হচ্ছিল। এরকম সদাহাস্যময় কোনো গোলরক্ষক আগে দেখেছি বলে তো মনে পড়েনা। জোরদার হতে চলেছে পরের ম্যাচ, দেখি কি করে হাসিখুশি অথচ কখনো জেদি দলটা!

Wednesday, December 7, 2022

কাতার quips: Brazil vs South Korea

এ কোন ব্রাজিলকে দেখলাম? কিরকম যেন বদলে গেছে দলটা। ভুল বললাম! দলটা সেই পুরনো ব্রাজিলের চেনা ছন্দে মাতিয়ে দিলো। বদলটা মাঝে হয়ে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। আবার তারা তাদের জাদুসমেত হাজির। কোথায় সেই গোলের কাছে হারিয়ে যাওয়া ব্রাজিল দল! এবার তো গোলের গন্ধ পেলেই বল গোলে ঢুকছে। দলটাকে আবার করে চনমনে লাগছে বাচ্ছাদের মতো। নেইমার এফেক্ট তো রয়েছেই, দলে আবার ঢুকে পড়ে খেলার রঙটাই বদলে দিল। তবে দলটা বেশ কিছু ব্যাপারে বাকিদের থেকে অবশ্যই আলাদা। নিজেরা নাচছে, বিপক্ষকে নাচাচ্ছে, তারপর গোল দিয়ে দেখলাম কোচকে নিয়ে নাচছে। নাচ করতে চাইছে না খেলতে, বোঝা মুশকিল!
তবে কোরিয়া খারাপ খেলা দেখালো না ব্রাজিল ভালো, তা পরের ম্যাচগুলোর আগে বলাটা ঠিক হবে না। যতই হোক, পরের ম্যাচগুলিতে প্রতিপক্ষরা অধিকাংশই কোনো না কোনো বছরে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট বা বিশ্বকাপজয়ী!
তবে ম্যাচের প্রতিটি গোল - ব্রাজিলের চারটে আর দক্ষিন কোরিয়ার একটা গোল - হলো মনজুড়ানো। ভিনিসিয়াসের শান্ত কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত গোল, নেইমারের পেনাল্টির সম্মোহনী ক্ষমতা, রিচার্লিসনের শিল্প, পাকেতার সুযোগসন্ধানী টোকা, পাইকের দূরপাল্লার চকিত গোল - প্রত্যেকটা অনবদ্য।
তবে এলিসন দেখালো গোল আটকানোতেও কি জাদু দেখানো যায়। ব্রাজিলের এই গোলকিপারটি বেশ অন্য ধরনের। গোল ছেড়ে উইং থেকে বলের সাথে গল্প করতে ছুটছে, হামেশাই মাঝমাঠ খালি দেখলে উঠে আসছে বল ধরতে। কিন্তু যেই দেখছে বল বিপক্ষের কাছে, তার সতর্ক পাহারায় গোল প্রায় প্রতিবার আটকে যাচ্ছে। কখনো লাফিয়ে তো কখনো যেন উড়ে, আবার কোনোবার নিজের শরীরকেই বল ও গোলের মাঝের বাধা হিসেবে ব্যবহার করে গোল আগলানোর কি অদম্য তাগিদ! প্রায় প্রতিবার তার জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষ।
দেখা যাক পরবর্তী খেলাতেও আবার ব্রাজিল কোন জাদু দেখায়!

Tuesday, December 6, 2022

কাতার quips: Croatia vs Japan

খেলাটা ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান হচ্ছে না জাপান-ক্রোয়েশিয়া হচ্ছিল বোঝা যাচ্ছিল না! কি যে খেলছে, কেন যে খেলছে, কেউ জানে না! বল থ্রো করছে, লাইনের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, কর্নার কিকের জোরালো শটের চোটে বল অন্য কর্নার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে! ওপেন নেট পেয়ে গোল করতে পারছে না আর লোকজন লং শট যা নিচ্ছে মনে হচ্ছে বল কাতার থেকে এই দুই দেশের মধ্যে কোথাও না ল্যান্ড করে আর এই চরম টেনশনের মুহুর্তে জাপানী কোচের ছোট খাতাটায় নোট নেওয়া দেখে মনে হলো ভাইপোর বিয়ের বউভাতে প্লেট হিসেব করছে। কি বোরিং খেলা যে হলো, বলার নয়! ভাবলাম, ব্রাজিলের খেলা দেখার আগে ঘুমিয়ে নেব, কিন্তু এরা করতে দিলে তো! হাফটাইমের ঠিক আগে এক দল গোল দিল, হাফটাইম হয়ে খেলা শুরু হতেই আরেক দল ফেরত দিয়ে দিল! ব্যস, আবার অচলাবস্থা, যদিও গোলদুটো খেলার কয়েকটা মুহুর্ত জমিয়ে দিয়েছিল।
তবে খেললো বটে গোলকীপারদুজন, তারাই এই ম্যাচের ঠিকঠাক হিরো!
অতিরিক্ত সময় ধরে খেলা চলতে থাকলেও, এই দুটো দলের মধ্যে কে যে বিরক্তিতে অন্যকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল কে বুঝবে! তবে জাপান টাইব্রেকারে যে কি করে এই আজব ব্যাপার দেখালো কে জানে? চারটের মধ্যে একটা গোল দিতে পারলো! এরকম করলে এদের বাড়ি ফিরে যাওয়াই উচিৎ। সঙ্গে ক্রোয়েশিয়াকেও নিয়ে যেতে পারলে আনন্দ পেতাম, কিন্তু তা তো হওয়ার জো নেই। তবে ক্রোয়েশিয়া এরকম খেলা চালিয়ে গেলে চাইব খুব তাড়াতাড়ি তাদেরও যেন নকআউট হয়ে যায়! যে কোনো খেলা জেতার চেয়ে ফুটবলের জেতাটা বেশি জরুরি!

Saturday, December 3, 2022

কাতার quips: Brazil vs Cameroon

ক্যামেরুন গোল করেছে, গোল আটকেছে, তাই জিতেছে! ব্রাজিল গোল করেনি, আটকাতেও পারেনি, তাই হেরেছে! ব্যাস, এই হলো total summary! তবে গোল যে একটাই খেলো, এটাই অনেক! এডারসন না কয়েকটা আটকালে ব্যাপারটা আরো খারাপ হতো। ফলাফলটা অবাক করে দেওয়ার মতো তেমন কিছু নয় অবশ্য। এটা হওয়ারই ছিল, দেখার ছিল কবে নাগাদ হয়! এই ব্রাজিল team নাকি বিশ্বকাপ জিতবে.... তাহলেই হয়েছে! এরকম কিছু ঘটলে না দেখা যায় এদের সমর্থকেরাই চমকে উল্টে গেছে শকের চোটে! মানছি, আগের দুটো ম্যাচের তৈরী প্লেয়াররা অধিকাংশই খেলেনি, কিন্তু তা বলে এত সুযোগ নষ্ট হবে? বিপক্ষের পা থেকে বলের দখল নিচ্ছে তাড়াতাড়ি, নিজেদের মধ্যে স্বাভাবিক বোঝাপড়ায় দারুন সব মুভমেণ্ট তৈরি করছে, বিপক্ষের পেনাল্টি সীমানার বক্সে ঢুকে পড়ছে অতর্কিতে। কিন্তু ব্যস, তারপর কি যে হচ্ছে কে জানে, ওই পর্যন্ত গিয়ে যেন কিরকম তারা কুম্ভমেলায় হারিয়ে যাচ্ছে। এক মার্টিনেল্লি বাদে কাউকে গোলে বল রাখতে দেখলাম না। শুধু ওর জন্যই খারাপ লাগছিল, প্রচুর চেষ্টা করেছিল কিন্তু প্রতিবার বিফল হলো। Unfortunate, but hopefully he will have his day sometime in the future! বাকিরা তো শুধু ছড়ানোর প্রতিযোগিতা করছিল। ব্রুনো গিমেরেশের কথাই ধরা যাক না হয়। তার অবস্থা হলো রথের মেলায় গিয়ে রথটাই দেখতে না পাওয়ার মতো। ম্যাচের দিনে তাকে বোধহয় বল সমেত খালি গোলপোস্টের সামনে ছেড়ে দিলেও গোল করতে অক্ষম হতো। এডারসন সেই তুলনায় গোলটা ঠিকঠাক রক্ষা করছিল। যে গোলটা খেয়েছে সেটা তার ভুলের তুলনায় বিপক্ষের কৃতিত্ব বেশি দাবী করবে। গোলপার্থক্য বাড়তে পারতো তার দারুন কিছু সেভ না থাকলে।

অপরদিকে ক্যামেরুন ফাটিয়ে দিলো পুরো। যেদিন শুনেছি সেনেগাল এবার আফ্রিকাসেরা হয়েছে আর মিশরের মতো দল উঠতে পারেনি, কিরকম তখন থেকেই মনে হয়েছিল যে আফ্রিকার দলগুলো এবার যথেষ্ট বেগ দেবে। ব্রাজিল বোধহয় ধরতে পারেনি ব্যাপারটা। আমি ভেবেছিলাম ক্যামেরুন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। ভুল ভেবেছিলাম। পুরো খেলাটা তো অসাধারন খেললোই, বরং ঠিক করে দেখলে বলতেই হবে যে দ্বিতীয় হাফে ব্রাজিলকে সম্পুর্ণ ব্যাকফূটে রাখলো। চকিত আক্রমণ থেকে আবুবকরের হেড হয়ে যে গোলটা হলো, তা যেকোনো গোলকীপারকে বোকা বানিয়ে দেবে। এ তো গেলো গোল করার কথা। অপর প্রান্তে সিংহের মতো নিজের দেশের গোলটা প্রাণ দিয়ে আটকালেন যিনি সারা খেলাটা জুড়ে, সেই এপাসিকে সেলাম। বারবার দুরন্ত সেভ করতে করতে ও গোলের ভিতরে মাছি না গলতে দেওয়ার মতো পাহারা দিয়ে তিনি ব্রাজিলের মনোবল ভেঙে দিচ্ছিলেন। খেলাটাতে অসাধারন কিছু মুহুর্ত আনার জন্য পুরো ক্যামেরুন দলটাকে কুর্নিশ জানাতেই হবে। They played just awesome football.

সৌন্দর্য ও গতি মিশিয়ে যে খেলাটা উপহার দিলো দলদুটো, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই তাদের। তবে তৃতীয় আরেকজনের কথা এবার তবে না বললেই নয় যিনি খেলাটাকে অন্য মাত্রা দিচ্ছিলেন, ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল এলফ্যাত। খেলোয়াড়দের পিঠ চাপড়াতে চাপড়াতে, ঘাড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েও হাসিমুখে যে লাল কার্ড (regulation penalty) দেখানো যায় খেলার আমেজে পরিবর্তন না এনে, তা এই খেলাটা না দেখলে হয়তো কোনোদিন বুঝতে পারতাম না। যেমন বড় মাপের দলের খেলা, তেমন দক্ষতাই দেখাল যেন তাদের খেলার পরিচালক!

Wednesday, November 30, 2022

কাতার quips: Brazil vs Switzerland

ব্রাজিল জিতেছে, but, বলতেই হবে, কোনোমতে। কি যে হয়েছিল কে জানে। কি দুর্বল পাস দিচ্ছিল নিজেদের মধ্যে শুরুর দিকে। বোধহয় ঠিকঠাক খাচ্ছে না। তাই হবে। নাহলে গোল খাওয়ার এত অদম্য আগ্রহ কি করে হয়? গোলকিপার নিজের খেয়ালে গোল ছেড়ে মাঝমাঠে উঠে আসছে বল ধরতে, বিপক্ষের কারুকে পেলে নিজেদের বক্সে কাটাকুটি খেলছে, দলের বাকিরাও নিজেদের গোলের দিকেই বল টানতে থাকে বারবার - গোল খাওয়ার উদগ্র বাসনা না থাকলে কি এরকম হয়?
তারপর দ্বিতীয়ার্ধে দেখি অন্য বিপদ! এবার কিছু খেয়ে নেমেছে মনে হলো। খেলার গতি বাড়লো আর পায়ের জোর যেন তাকেও ছাপিয়ে গেলো। যাকে উদ্দেশ্য করে পাস দিতে চাইছে, তাকে ছাড়িয়ে বল অন্য কারুর দিকে চলে যাচ্ছে। যে গোলটা অফসাইডের কারণে বাতিল হলো, সেটা হলো তো এই কারণে। যাকে বলটা পাস দিতে চাইল, তার ও তার পরেরজনের বাড়ানো পা ছাড়িয়ে বল চলে গেল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছে। ফসকে যাওয়া বল নিয়ে গোলটা তিনি করলেন বটে, তবে গোলটা বাতিল হয়ে খেলার সম্মানটা রক্ষা হলো।
যেরকম খেলছে তাতে সুইসরা হয়তো কিছু করতে পারলোনা, কিন্তু বড় দলগুলো তো এরকম করলে এদের সাথে ছেলেখেলা করবে। ক্যাসেমিরোর গোলটা অসাধারন লেগেছে তবে দলগতভাবে ব্রাজিল বেশ ম্রিয়মান ছিল। নেইমার না থাকার দরুন মনে হয় দলের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। নেইমারকে যতই নাটুকে বলি না কেন, মাঠজুড়ে খেলে আক্রমণটাকে সাজানোর কারিগর কিন্তু তাকেই বলতে হবে। থিয়াগো সিলভা আর নেইমার মাঠজুড়ে খেলে সার্বিয়াকে বেসামাল করে দিয়েছিল। কিন্তু এবারে বোধহয় থিয়াগো সিলভাকে বাধ্য হয়ে রক্ষণটাই শুধু সামলাতে হলো। তাই গোলের সুযোগ করে দেওয়ার লোকও কমে গেল। নিশ্চয় চাইব নেইমার সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি মাঠে নামুক, কিন্তু তা বলে ব্রাজিল কি একজনের ভরসায় খেলবে নাকি! পরের খেলাগুলোয় পুরো দলটাকে স্বমহিমায় খেলতে দেখার আশা রাখব!

Sunday, November 27, 2022

কাতার quips: England vs USA

ইংল্যাণ্ড দলে হ্যারি কেন খেলে। কিন্তু বিশ্বকাপে সেদিন মার্কিনি ছোকরাদের সামনে তাদের হাতে হারিকেন হয়ে গেছিল আরেকটু হলে! গোলগুলোই যা হলো না তাদের বিপক্ষে। প্রথম কয়েকটা মিনিট লড়াইটা হয়েছিল সমানে সমানে। তারপর যে কাণ্ডটা মার্কিনিরা করল তাতে সাউথগেটের লজ্জায় পড়ার কথা। ইংল্যাণ্ড শুনেছি হেভিওয়েট দল হিসেবে খেলছে। তো ফেদারওয়েটের কাছে এই অবস্থা হলে মুশকিল আছে পরে। জনতা না তাদের কাছে জানতে চায় হ্যারি থাকতেও দলটা কেন খারাপ না খেলেও ছড়ালো।

But for that the credit goes to the young USA team. Their energy was really fascinating. পরের দিকে তারা চাপে রেখে দিয়েছিল বিপক্ষকে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের ঝড়ে। সত্যি বলতে কি, ইংল্যাণ্ডকে কার্যত দিশেহারা করে দিচ্ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে। Hope to see these guys keep up their spirit for future, cheers and best of luck!

Saturday, November 26, 2022

কাতার quips: Serbia vs Brazil

আহা, কি খেলা দেখলাম!

খেলা না বলে নৃত্যনাট্য বলা উচিৎ!

এ যেন কোনো অসামান্য ব্যালে, ballet on grass..... Brazilian ballet!

ব্রাজিলের খেলা মানেই এক অন্য অনুভুতি। মনে হয় যেন নিজের দল খেলছে। দুরুদুরু বুকে খেলাটা দেখতে হয়! যদি goal খেয়ে যায় তারা! সেই মাঝরাতের সাত গোলের দুঃস্বপ্ন তো আছেই, তার উপর খেলা দেখে মনে হয় এরা কি মানুষ না অন্য কিছু! অন্য কোনো দল নিজেদের বক্সে বিপক্ষের উপস্থিতিতে বল clear না করে চালাচালি করে বলে তো মনে হয় না। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে না বল নিয়ে সকালে বন্ধুদের সাথে চ্যাংড়ামো করতে বেরিয়েছে বোঝা যায় না। এরা মনে হয় একটুও ভাবে না সমর্থকদের মনে কি চলছে।

খেলোয়াড়দের ভয়ডর কম থাকতেই পারে, কিন্তু আমরা? আমাদের মতো সাধারন মানুষদের পক্ষে কি এত tension নেওয়া যায়? Pressure বেড়ে যায়, নার্ভ fail হয়ে যায়, heart fail হয়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়, চাই কি চাপে নিম্নচাপ পর্যন্ত পেয়ে যেতে পারে! কিন্তু ব্রাজিল দলকে কথাটা বোঝাবে কে? তারা তো দেখি বল পেলেই সাম্বার তালে নাচতে থাকে আর বিপক্ষের দলকেও যেন নাচাতে থাকে। খেলার শুরুতে যেই সেণ্টার হয়ে বল ব্রাজিল পাবে, তাকে ব্যাকপাসের ঠেলায় পিছিয়ে নিজেদের গোলকিপার পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এই অবাক কাণ্ড দেখে যখন সমর্থকরা এদের মুণ্ডপাত আর নিজেদের শরীরে অস্বস্তি বোধ করবে আর বিপক্ষ মনে করবে এ কি অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে - বল তো দেখছি গোলের কাছে প্রায় চলেই এসেছে, এবার হালকা টোকা মারা যা বাকি, ঠিক তখনই শুরু হবে আসল মজা। নাচের ছন্দ বদলে গিয়ে বল বিপক্ষের নাকের ডগা দিয়ে তাদের গোলের কাছে ভাসতে ভাসতে চলে যাবে। তারপর কি যে হবে কেউ জানে না অবশ্য! রাফিনিয়ার মতো অতি ভদ্রলোক কেউ থাকলে বলটা গোলকিপারকেই হয়তো দিয়ে দেবে ফেরত। তবে বলটা যদি কোনোরকমে পড়ে যায় রিচার্লিসনের মতো শিল্পীর সামনে, তাহলে তাকে দেখা যেতেই পারে গোলের জালে জড়িয়ে যেতে।

তবে প্রতিবার যে এরকম হবেই তার কোনো স্থিরতা নেই! কখনো নিজেরাই গোল খেয়ে ফেলবে। তবে খেলাটা উপভোগ করবে নিজেদের মতো করে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে খেলোয়াড়দের উচ্চতা নিয়ে যেটা সার্বিয়ার সাথে খেলাটায় চোখে পড়ল। উড়ে আসা বলের দখল নিতে যে উচ্চতার লাফ দরকার হলো, হেডের দিক দিয়ে চাপের হতে পারে।

তবে নেইমার নাটকটা কম করলে খুশি হবো। প্রতিবার নেইমারকে দেখি যেই বিপক্ষের বক্সে ঢুকতে পারবে, পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে যে করে হোক। এবার দেখলাম যে ব্যাপারটা মাঠ জুড়ে করছে। এটা রাখাল বালকের বাঘ পড়েছে মতো না হয়ে যায়। অবশ্য স্বীকার করতেই হবে যে নেই নেই করেও নেইমার জুনিয়রকে সুযোগ পেলে আঘাত মারতে বাকি রাখেনা বিপক্ষের লোকজন। বোধহয় নামেতেই যে 'মার' শব্দটা রয়েছে, তার কারণে ঘটে আবার নামের মধ্যে 'নেই' থাকাটা প্রেরণা দেয় foul না হলেও পড়ে যাওয়ার!

Friday, November 25, 2022

কাতার quips: Uruguay vs South Korea

নীল বনাম লাল দারুন উপভোগ করলাম। লাল মানে দক্ষিন কোরিয়ার জামার রঙ, নীল হলো উরুগুয়ে দলের জামার রঙ, সাথে হলুদ জামা পরিহিত কোরিয়ার গোলকিপার আর সবুজ রঙের জামায় উরুগুয়ের গোলকিপার, খেলার শুরু থেকেই রঙিন আবহাওয়া। খেলাটা তাই কি এত রঙিন লাগলো?
নুনেজের চকিতে খেলার গতি বাড়ানোর চমক, সন হিয়ুং মিনের পায়ের শিল্প, গোডিনের গোলের সন্ধানে মাঠের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ওঠানামা, কিম সিয়ুং গুয়ের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গোলরক্ষণ, হিমেনেজের (নামের English বানান Gimenez হলেও উচ্চারন করছে হিমেনেজ) সাহসী ট্যাকল পেনাল্টি বক্সের মধ্যে, এর থেকে রঙিন আর কি হবে! হোক না খেলার ফল গোলশূন্য ড্র, যাক না হোয়াঙের পা থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বল পোস্টের উপর দিয়ে, পড়ুক না গোডিনের হেড সাইডবারে আছড়ে, খেলাটা তো হলো খেলার মতো! কাউন্টার অ্যাটাকের গতিময় ফুটবল উপহার দিলো দুই মহাদেশের দুই দল।
সুয়ারেজ বরং তুলনায় ম্রিয়মান থাকলো। যে লোকটাকে দেখলে তার আশপাশের লোকেদের হাত automatically তাদের নিজেদের কানে চলে যাওয়ার কথা, তার নিজের খেলাটাই আটকে দিয়ে যেন কানটাই তার কেটে নেওয়া হল!