Monday, July 31, 2023
Cracking mysteries with The Mentalist
Wednesday, July 12, 2023
গোরা 2: জমে গেল too!
Sunday, July 2, 2023
Homestay Murders: খুনির সাথে, খুনের মাঝে, একই বাড়িতে
Monday, June 26, 2023
এটা কি রাজনীতি হল?
রাজনীতি দেখলাম।
শুরুতেই এক মহিলার গাড়ি অ্যাক্সিডেণ্টে আপাদমস্তক ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় হাসপাতালে শয্যা। প্রাণে বাঁচলেও স্মৃতি তার সাময়িকভাবে লোপ পায়। তবে পুরোপুরি লোপ পায় বলাটা ঠিক নয় - মাঝে মধ্যে মোবাইলের মিসড কলের মতো জানান দিয়ে যায় তার উপস্থিতি। তো সেই প্রায় বিস্মৃত ঘটনার কিছু কিছু ঝলক মনে পড়িয়ে দেয় মহিলাকে যে যেদিন দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তখন ড্রাইভারের জায়গায় আরেকজন বসেছিল। কিন্তু চেনা পরিচিতদের সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা হলে তারা বলেই চলে যে গাড়িতে সাথে শুধু ড্রাইভার ছিল। ব্যাপারটা বেশ সন্দেহজনক ঠেকে মেয়েটির কাছে। তার উপর তার মোবাইলে কোথাকার কোন জালি অনির্বাণের মেসেজ আসতেই থাকে যা তার সন্দেহকে আরো জোরদার করে। এরপর সত্যটাকে বার করতে চলে গুছিয়ে প্রয়াস।
তো এই পর্যন্ত পড়ে যদি পরীক্ষার প্রশ্ন আসে সিরিজটির নামকরণের যথার্থতা নিয়ে, তখন এর মধ্যে যে রাজনীতি কোথায় ঢুকল, সেটা বোঝাই দায় হবে। মানলাম, নায়িকার পিতা রাজনীতিক, গোটা পরিবার, অধিকাংশ পরিচিতজন রাজনীতির সমুদ্রে স্নান করে, কিন্তু যেখানে ঘটনাটা আসলে একটি রহস্যের, সেখানে অকারণ জলঘোলা করাটা কি আদৌ দরকার? কাহিনীতে জোর করে রাজনীতির বান ডাকিয়ে একটা ঠিকঠাক রহস্য গল্পকে কিরকম বেকার করে দিলো।
অবশ্য পুরোটা দেখে সাতকাণ্ড রামায়ণ পড়ে রাবণ কার খুড়তুতো বোন জাতীয় প্রশ্ন উঠবে না কারণ সাত পর্বের সপ্তম পর্বে রাজনীতির পঙ্কিল রূপটা অবশেষে প্রকাশ পাবে, কিন্তু তবুও বলবো কাহিনীটি আদপে রহস্যের, তাকে কোনোভাবেই পলিটিকাল ড্রামা বলাটা ঠিক নয়। পরের সিজনে যদি রাজনীতিকে মুখ্য করে দেখানো হয়, তখন না হয় বলব বুঝলে। ততদিন পর্যন্ত, বলতে বাধ্য হচ্ছি, নামকরণ অসার্থক।
অভিনয় প্রসঙ্গে প্রথমেই বলি কৌশিক গাঙ্গুলির কথা। ভদ্রলোক পরিচালনা নিয়ে ছিলেন, বেশ ছিলেন, অভিনয়ের দিকটা অন্যদের উপর ছাড়লেই ঠিক করতেন বোধহয়। অপরদিকে দিতিপ্রিয়া রায় ও অর্জুন চক্রবর্তী প্রচুর চেষ্টা করেছেন কিছু করার, প্রথমজন তো বটেই, কিন্তু রহস্য ও রাজনীতির গোলমালে পুরোটাই যেন গুলিয়ে চমকগুলোকে মৃদু করে দিয়েছে। মধ্যিখান থেকে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় মানানসই চরিত্র পেয়ে চমৎকার ছাপ রেখে দিলেন পরিমিত অভিনয়ের।
জমজমাট প্লটের প্রচুর উপকরণ ছিল, শুধু লক্ষ্যটা স্থির না হওয়াতে রান্নাটা মনের মতো হলো না। তাই সৌরভ মুখোপাধ্যায়কে অনুরোধ করব, পরের সিজন থেকে নামটা যদি খেয়াল রেখে পরিচালনা করা হয়, তাহলে খুশি হবো।
Friday, June 16, 2023
Dancing on the Grave and What Lies Underneath
Exploring a gruesome death that seemed to have shaken the entire populace of this nation, the narrative is a chilling retelling of maybe, the crime of the century. The tragedy that took place decades ago will be sure to dumbstruck the audience with the facts that are highlighted.
Investigating into the mysterious disappearance of Shakereh Khaleeli, the series unfurls the chilling facts that are still being deliberated. Reported as missing way back in 1991, the remains of the hapless lady was unearthed approximately 35 months later from the backyard of the home where she lived. Married, to her 2nd husband, Swami Shraddhanand, six months after she separated away from her ex, Akbar Khaleeli, who was once also her 1st cousin, Shakereh tried leading a life different from just being wife to a foreign diplomat. But this decision not only distanced her from Akbar, but this resulted in her separation from her four daughters as well. Of them, Sabah, the second eldest, however, kept in regular touch with her mother than her other siblings. So, it was only natural that she first got the inkling of something alarming as she suddenly realized the disappearance of her mother. Searching frantically for her mother in avenues as directed by the husband, Murli Manohar Mishra aka Swami Shraddhanand, she turned to the police in desperation after being deceived for months. Such was his persuasive power that Mishra displayed to keep the daughter frustrated yet consciously unaware of any serious foul play for nearly a whole year. The police themselves took another year before a series of surprise breakthroughs ultimately revealed the crime that remained hidden for so long. But the revelations were unthinkable and terrifying.
Based on personal interviews, police records, rulings, media coverage, discussions with psychologist, author and lawyers, archived footage, historical records, India Today Originals and India Today produces this gripping docuseries that must be fully praised for presenting facts and never trying to irrationally infer. Patrick Graham directs to sieve through the unnerving anecdote of this sensational case and attempts to recreate the likely events that had caught the headlines of dailies in the past and still has the capacity to stupefy the minds of the present and the future.
Saturday, June 3, 2023
Dahaad: the stifled cry for justice
Wednesday, May 24, 2023
সাবাশ ফেলুদা: রহস্যটা গড়বড়ে!
Friday, May 5, 2023
জাতিস্মর পরিচয়
ব্যাপক একটা সিরিজ দেখলাম হইচইতে।
জাতিস্মর!
তুখোড় প্লট, রহস্য ও নাটকীয়তায় মোড়া চূড়ান্ত চমক, অসামান্য সিনেমাটোগ্রাফি, গা ছমছমে সুর আর সঙ্গতিপূর্ণ পরিচালনবোধের মিশেলে উপভোগ্য সাতটি পর্ব।
বাংলায় টানটান উত্তেজনাপূর্ণ রহস্যের এরকম সিরিজ বহুদিন পর দেখলাম।
জমাটি রহস্যে ঘেরা পরিবেশের সূত্রপাত শহর থেকে খানিক দূরে এক গ্রামের ব্যবসায়ী পরিবারের প্রাসাদোপম অট্টালিকায় একটি মেয়ের আচমকা আবির্ভাবে। শহর থেকে গ্রামেতে ফটো তুলতে আসা মেয়েটি হঠাৎ করে যেন অজ্ঞান হয়ে যায় প্রাসাদটির সামনে। তারপর আপাতদৃষ্টিতে তাকে যখন সুস্থ মনে করা হয়, সে শুরু করে এক অদ্ভুত আচরন, যেন বাড়িটি তার কতদিনের চেনা! দিনটাও ছিল অদ্ভুত! গ্রামের মন্দিরের দেবী বছরের সেইদিনই নাকি শুধুমাত্র পূজা গ্রহণ করেন ও বাকি দিনগুলো মন্দির বন্ধ থাকে। প্রচলিত আছে যে, সেদিন নাকি গ্রামের কোনো মৃত ব্যক্তির আত্মা ফিরে আসবে! তাই এই বিশেষ দিনটিতে শুরু হওয়া মেয়েটির আচরণ এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, আর তার সাথে যেন পাওয়া যায় পুরনো কোন ভয়াবহ ঘটনার ইঙ্গিত!
বাকিটা সানি ঘোষ রায়ের পরিচালনায় অনুজা চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনীর চমকে উপভোগ করা যাবে। সাথে ইন্দ্রনীল মুখার্জ্জীর অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি, আনিস আহমেদ ও দেবায়ন ব্যানার্জ্জীর ভয় জাগানো সুরের আবহ, তীর্থঙ্কর মজুমদারের গা শিরশিরানি ধ্বনি প্রক্ষেপণ, ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করতে আর কি চাই? অবশ্য আর যা চাই, সেটা কৃষ্ণেন্দু দেওয়ানজির ত্রুটিহীন অভিব্যক্তি ও মধুমিতা সরকারের অভিনয়ের অভিনবতা মিটিয়ে দিয়েছে! পাশাপাশি, রোহন ভট্টাচার্যও সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিনয় করেছেন বাকি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের মধ্যে।
Thursday, April 13, 2023
ব্যোমকেশ: বন্দিনিবাসে
আমি কাহিনীটা পড়েছি, সত্যজিতের 'চিড়িয়াখানা' সিনেমা ও অঞ্জন দত্তের 'ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা' সিনেমা সিডিতে দেখেছি, বাসু চ্যাটার্জ্জীর 'চিড়িয়াঘর' সিরিয়াল টিভিতে দেখেছি। কাহিনীটা জানি, কে খুন হবে জানি, কে খুন করবে জানি, ব্যোমকেশ কোথায় ভুল করবে জানি, খুনী কখন ধরা পড়বে জানি, মোটিভ জানি, চরিত্রদের ধরন জানি, কিন্তু কিছুতেই পুরনো যেন হয় না রহস্যের এই অধ্যায়গুলো। তার উপর যদি পরিচালক হয় নতুন, মানে নতুন করে আবার পুরনো স্বাদ পাওয়ার যদি কোনো সুযোগ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই! দেখতেই হবে!
তাই সুদীপ্ত রায়ের পরিচালনায় ব্যোমকেশের অষ্টম সিজন হইচই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখে ফেললাম। নামটা পিঁজরাপোল করা হয়েছে, প্রথম পর্বে ব্যোমকেশের উপস্থিতি নেই প্রায়, গলাটা শুধু শুনতে পাওয়া গেছে শেষ বেলায় প্রায় - দেখেশুনে খুব বিরক্ত লাগছিল। ভাবছিলাম এ আবার কি ধরণের আঁতলামি! কিন্তু গোয়েন্দা গল্পের আকর্ষণটা ছাড়তেও পারছিলাম না। পুরোটা দেখতে তো হবেই।
ভাগ্যিস! বাকিটা, যাকে বলে, জাস্ট ফাটাফাটি! গল্পটার মূল ভাবটা অপরিবর্তিত রেখে কিছু বদল করা হয়েছে। কিন্তু বদলগুলো মোটামুটি যুক্তিপূর্ণ। ব্যোমকেশরূপী অনির্বাণ ভটচাজ অসাধারন, বিজয়ের ভূমিকায় সৌমিক মৈত্রও নজর কাড়বে। রিদ্ধিমাও সাবলীলভাবে স্বাভাবিক সত্যবতীর চরিত্রে। ভাস্বর চ্যাটার্জ্জী এবার অজিত - নতুন মুখ, নতুন অভিব্যক্তি!
তবে যেটা আরেকটি চমক, সেটার আঁচ নাম দেখানোর সময় খেয়াল করলেই পাওয়া যাবে। অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবার শুধু ব্যোমকেশ হিসেবে নয়, আর্ট ডিরেক্টর হিসেবেও বিদ্যমান। প্রমাণ প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শটের নির্বাচনে! দৃশ্যের মধ্যে দিয়েই গল্পটা পরিবেশন হয়েছে পরিমিত সংলাপের সাথে - এটাই তো শিল্প, এটাই তো আমার মতে সঠিক চলচ্চিত্রায়ণ! সাথে আছে শুভদীপ গুহর অসামান্য ওপেনিং স্কোর, যা 'এলিমেণ্টারি' ও 'শার্লক'-কে মনে করাতে পারে।
অনন্যসাধারন হতে পারত সিরিজটা। কিন্তু মনের মধ্যে অস্বস্তি যে রয়েই যাচ্ছে। নাম পাল্টে কাহিনী আত্মপ্রকাশ করলো, প্রসঙ্গ অনুযায়ী মানলাম (মানেটা অভিধান থেকে দেখতে হয়েছে)। গোয়েন্দা দেরিতে দৃশ্যে প্রবেশ করছে, সেটাও মানলাম। আরো অনেক কিছু মানলাম। কিন্তু তা বলে ব্যোমকেশের পেট খারাপের অসুবিধা গোটা পর্বগুলো জুড়ে দেখাতে হবে। একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না কি। ব্যোমকেশ মধ্যবিত্ত বাঙালী গোয়েন্দা। সেটা আমরা জানি। তার পেটখারাপ হলেও তাই, না হলেও তাই। সেটাকে এরকম পেটখারাপের মধ্যে দিয়ে দেখানোর দরকারটা ঠিক হজম হলো না, অবশ্য যদি এই প্রসঙ্গটাকে অনির্বাণের অভিনয়বোধের অসামান্যতা বোঝানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে আলাদা কথা! কিন্তু তাহলে যে ব্যপারটা অপ্রাসঙ্গিক! তাই ব্যোমকেশকে শৈল্পিক আঙ্গিকে দেখালেই চলবে, তার ব্যক্তিত্বকে অস্বাভাবিক অপ্রাসঙ্গিকতার প্রলেপ দেওয়াটা অনাবশ্যক।
Friday, April 7, 2023
Gaslight: Where suspense reigns while secrets overwhelm!
Secrecy seems to be the theme of the story and the majority of the characters seem to harbour something, hidden from others. Strange happenings increase the suspense and twists in the plot keeps the interest growing.
A princess is invited home by her father, the king, whom she hates! But when the time comes for the arrival of the estranged daughter, the father goes missing! Reportedly on a business trip, his phone is unreachable and nobody seems to know where he has actually gone. Surprisingly, the residents of the royal palace, including the queen seems less bothered. The police, too, is apparently not too keen to investigate. The paraplegic princess, thus returning home, finds herself surrounded by mostly strangers and the stepmother, the queen, whom she very naturally despises. Her state of mind is even more shaken as she is haunted apparently by visions of her father in the mansion in the nights that not only questions her sanity but also brews doubts as to the whereabouts of the king, who had still remained untraceable!
Directed by Pavan Kirpalani, the mystery, which is brewed, is though old and almost predictive, would still have been enjoyable, if all the doubts raised, by the very nature of the storyline was clarified as the case is wrapped and the truth revealed.
But nonetheless, this Vikrant Massey powered show is augmented in suspense by the art decor of Apurva Bhagat and Ashish Naik and the touch ups by Avinash Pawar. So, the audience might immerse themselves in the haunting charm of royalty in ruins but will be advised to not wish for a wholesome entertainment!
Saturday, March 4, 2023
'ডাকঘর' একঘর
গ্রাম: হাগদা
পোস্টমাস্টার: দামোদর দাস
গুজব: ডাকঘরটি ভূতুড়ে
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাথরুমে সাপ, পোস্টবাক্সে পাখির বাসা আর গাছের তলায় মোবাইলের সিগন্যাল!
তো এরকম উদ্ভট পরিস্থিতি যেখানে সেখানে মৃত পোস্টমাস্টারের জায়গায় তার ছেলে চাকরিতে বহাল হলে, গ্রামের বাইরে থেকে আসা অচেনা যুবকটিকে সহজ সরল লোকজনেরা যে ভূতের ছানা জাতীয় সম্বোধন করে আপন করে নিতে চাইবে, এটা আর কি এমন বড় ব্যাপার হল? এসব ব্যাপারে মাথা ঘামালে কি দামোদর এক বছর ধরে জমা থাকা চিঠিগুলো বিলি করতে পারবে? নাকি পারবে তার বড়বেলার কষ্টটাকে ভুলে ফেলতে? সে কি শুধু এখানে চাকরি করতেই এসেছে? নাকি এসেছে হারানো কিছু ফিরে পাওয়ার অদম্য তাড়নায়!জানতে হলে তো উপায় একটাই, হইচই খুলে বসে পড়ুন এখনই ও গা ভাসান সিরিজটির সাত পর্বের সাতরঙা আবেগের জোয়ারে। জানলার আটকে থাকা পাল্লা খুলে হাতে চলে আসুক, কোয়ার্টারে মানুষ থাকবে না ছাগলের জন্য রাখা হবে - তাই নিয়ে চলুক তর্ক, সম্বর্ধনার চেয়ার ভেঙে পড়ুক সম্বর্ধিত ব্যক্তিসমেত হুড়মুড়িয়ে, যমজ ভাই সরকারি চাকরি করুক অন্য ভাইয়ের নামে প্রক্সি দিয়ে, যা খুশি হোক, আপনি শুধু তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করুন মুহুর্তগুলো গুছিয়ে!
পদ্মনাভ দাশগুপ্তের কলমে ও সুহোত্র মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ের জাদুতে পুষ্ট এই কাহিনী দেখে কোন দর্শক বলে দেখি যে বাঙলা ধারাবাহিক জাতে ওঠে নি?
অবশ্য, আমি বলেছিলাম প্রথমদিকটা দেখে এবং পুরোটা দেখে কথাটা পাল্টে ফেলে বলছি যে এরকম সিরিজ আরো হোক। কিছু অতি সরলীকরণের জায়গাগুলো অন্যভাবে চিন্তা করে যদি আরো বাস্তবসম্মতভাবে পরিবেশন করা হয় তবে এই সিরিজগুলি হয়ে উঠবে আরো পরিণত এবং এরকম সাধারন ঘটনা দিয়ে গড়া গল্প যত বেশি করে শুধু চিন্তাভাবনা ও পরিবেশনের গুণে অসাধারন হয়ে উঠবে, তবেই, আমার ধারনা, বাঙলা সিরিজ বিশ্বজনীন হয়ে উঠবে।
সিরিজটির পরিচালক হিসেবে কাকে ধন্যবাদ জানাবো ঠিক বুঝতে পারছি না, পড়েছি যে কিছু জটিলতা আছে। তবে অভিষেক সাহা ও অভ্রজিৎ সেন - দুজনের থেকেই এমন আরো অনেক ধারাবাহিকের প্রত্যাশা রইল। এরপর আসি চিত্রগ্রহণে, সেটাও অনবদ্য আর সেখানেও জটিলতা। তাই মৃন্ময় নন্দী ও শান, দুজনকেই ধন্যবাদ জানালাম।
Monday, February 27, 2023
Farzi: Crime pays..... but dearly!
Sunday, January 29, 2023
করবে কাবু একেনবাবু!
একেনবাবু কলকাতায় এলেন.... অপরাধ দেখলেন..... সমস্যার সাথে সাথে দর্শকদের মনও প্রায় জয় করে ফেলেছিলেন, কিন্তু বাদ সাধল শেষটুকু! অবশ্য এরকম কর বলাটা হয়তো ঠিক হচ্ছে না, অভিযোগটা হতেই পারে একান্তই আমার ব্যক্তিগত মত। তাই আগে বরং বলে নেওয়া যাক মনকাড়া প্রসঙ্গগুলোর সম্বন্ধে।
প্রথমেই প্রশংসা করতে হয় গল্পগুলোকে সমস্ত বয়সের উপযোগী করে তোলার প্রয়াসটাকে। যেখানে বহু সিরিজ ওটিটির সেন্সরশিপের বাইরে থাকার সুবিধাটাকে হাতিয়ার করে অকারণ অকথ্য ভাষা ও কয়েকটি অস্বাভাবিক রুচির দৃশ্য ঢুকিয়ে বেকার সীমিত সংখ্যক লোকজনের দেখার জন্য পরিবেশন করছে, সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক প্রসঙ্গের সম্ভাবনা দেখলেই তাকে সুচারুরূপে সমস্ত বয়সের উপযোগী করে পরিবেশন করার সাহসী এবং সংযমী প্রয়াসকে সেলাম। প্রতি কাহিনীতে ধারাবাহিকভবে ব্যাপারটাকে ধরে রাখার চেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।
এরপর অভিনয়। এতদিনে অনির্বাণ চক্রবর্তী তো একেনবাবুর সাথে প্রায় সমার্থক হয়ে গেছেনই রুপোলী পর্দায়, কিন্তু এবার, সুহোত্র মুখোপাধ্যায় ও সোমক ঘোষ যথাক্রমে বাপীবাবু ও প্রমথবাবু চরিত্রদুটিকে আরো স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত করে ফুটিয়ে তুলে চক্কোত্তিবাবুকে ছাপিয়ে গেছেন! সুহোত্র ও সোমক একেনবাবু সিরিজে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করে জমিয়ে যুগলবন্দী পরিবেশন করলেন। চরিত্রদুটিতে অভিনয় করা পূর্বতন অভিনেতাদের ছোটোপর্দায় অভিনয়কে ছোটো না করেও বলছি, নতুন এই জুটি সত্যিই অনবদ্য! অবশ্য বড়পর্দায় একেনবাবু ছবিতে এই দুজন আগে এই চরিত্রদুটি করে তারপর সিরিজে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাই যেন সিরিজে দুজনে এত সাবলীল, এত মজাদার! তার সাথে শুভ্রজিৎ দত্ত ও বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী দুটি ছোটো অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে জমিয়ে দিয়েছেন। চরিত্রদুটি ছোটো দৈর্ঘ্যের হলেও, মূল রহস্যের গাম্ভীর্যকে এতটুকু না কমিয়েও হাসিঠাট্টা মেশানো কিছু টাটকা মুহুর্ত উপহার দিয়েছেন। তার সাথে আছেন লোকনাথ দে। ভদ্রলোককে 'মন্দার' থেকে দেখছি যে পর্দায় উপস্থিতির প্রতিটি ক্ষণকে কি এক জাদুতে অসামান্য করে তোলেন, শুধুমাত্র অভিব্যক্তি দিয়ে।
কিন্তু এত করেও সমস্যাটা তাহলে কি হল? সমস্যাটা দেখতে পেলাম গোয়েন্দার সত্ত্বাতে। অপরাধীকে ধরতে গোয়েন্দাকে হতেই হবে কঠিন, প্রয়োজনে রূঢ়, কিন্তু অপরাধীর অসহায়তাকে কি করে অস্বীকার করবে? কি করে অপরাধীকে ধরিয়ে দেওয়ার পরেও অসহায়তাকে নিয়ে খরচ করবে না কোনো মুহুর্ত। কাহিনীকার কি লিখে গেছেন জানি না, তবে পরিচালক হিসেবে জয়দীপ মুখার্জ্জীবাবু ভেবে দেখতে পারেন। না হলে ব্যোমকেশ, ফেলুদা, কিরীটি তো কোন ছাড়্, গোয়েন্দা অর্জুনও অনেকটা এগিয়ে থাকবে। উচ্চমানের সত্যসন্ধানী উচ্চ মনের অধিকারী হলে তবেই হৃদয়ে থেকে যাবে।