Saturday, November 29, 2025

নিশির ডাক, করতে পারে হতবাক!

বাঙালীরা রবীন্দ্রনাথকে প্রায় সমস্ত সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে তো ব্যবহার করেই, দেখাদেখি বাঙলার অনেক অনুষ্ঠানেও তিনি সদা; উপস্থিত। তাই তিনি IPLএও আছেন (courtesy, শাহরুখ খান ও KKR), আবার যেখানে কোনোদিন খেয়ে জাননি, এমন জায়গাতেও উল্লিখিত (courtesy, মহম্মদ নাজমুদ্দিন, সৃজিত মুখার্জি ও OTT)!
কিন্তু এবার বোধহয় এই random রবীন্দ্রনাথ ব্যাপারটা একটু থামানো দরকার, নয়তো কেউ আবেগে ভেসে খুব শিগগির কবিগুরু Multiverse খুলে গুরুদেবকে বিভিন্ন প্রসঙ্গে জুড়ে দেবে।
যদিও এতটা বাড়াবাড়ি এখানে নেই, তাহলেও বলব গুরুদেবকেই দরকার ছিল কি? এই কারণে বলছি যে, চরিত্রটা দরকার কিন্তু রবিঠাকুরকেই নয়! বরং সেই জায়গায় কোনো কাল্পনিক প্রবীণ সঙ্গীতজ্ঞ ব্যক্তি থাকলেই চলত। আসলে রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে যে প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে, আমার মতে (আমার অবশ্য রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সাহিত্যজ্ঞান ছোটোবেলায় সহজ পাঠ, 'শিশু'র কিছু কবিতা ও বড়বেলায় গোরা ও কিছু নাটকের মধ্যেই সীমিত), বাস্তবে এরকম কিছু হওয়াটা কবিগুরুর মতো দূরদৃষ্টসম্পন্ন মানুষের দ্বারা মুশকিল বলে মনে হয়েছে।
তাই পরিচালক (জয়দীপ মুখার্জ্জী) ও আর্য রায় (ভাবনা) ভবিষ্যতে এই সুক্ষ্ম দিকটার দিকে খেয়াল রাখলে কাহিনীটা (শ্রীজিব) এই ছোটোখাটো ত্রুটিগুলো এড়াতে পারত।
শুরুতে গল্পটা কিন্তু বেশ এগোচ্ছিল। ছয় বন্ধুর এক দল একটি গ্রামে এসে হাজির হয়। গ্রামের নাম সোনামুখী। গ্রামটিতে আসার উদ্দেশ্য গবেষণার খাতিরে। সঙ্গীত ্নিয়ে ভিন্ন রকমের গবেষণা আর বিষয় হল রবীন্দ্রনাথের পাঁচ প্রিয় গায়িকা। এই গায়িকাদের মধ্যে একজনের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করতেই এই প্রত্যন্ত গ্রামে তাদের আসা। নিশিগন্ধা নামক সেই সুগায়িকার বিবাহ নাকি এই গ্রামেতেই হয়েছিল কিন্তু ্তারপরেই ইতিহাসে তিনি যেন বিস্মৃত। তাই তাঁর জীবনের বাকি অংশটার সন্ধানেই ছয় বন্ধুর এই গ্রামে হাজির হওয়া।
কিন্তু আসার পথেই তারা জানতে পারে সোনামুখীতে নাকি আছে মৃত্যুর ভয়াল হাতছানি। বাইরের লোকজন এই গ্রাম এড়িয়ে চলে খুব স্বাভাবিক কারণে -  কে আর সেধে অকালমৃত্যু চাইবে? তার উপর গ্রামে ঢুকে জানতে পারা যায় আরেক অদ্ভুত কথা। গ্রামেতে কেউ গান গাইলে, তাকে তাড়া করবে মৃত্যু! এক প্রতিহিংসাপরায়ণ আত্মার রোষে সে প্রাণ হারাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হল, বন্ধুদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামটাতে কিছুদিন কাটাতে চায়। থাকার জায়গা স্থির হয় পুরানো জমিদারবাড়ি, যেখানে নিশিগন্ধার বিয়ে হয়েছিল। বয়সের ভারে জরাজীর্ণ ভগ্নপ্রায় যে বাড়ি দেখলে হয়তো ভূতেরাও ভয় পাবে, এদের কারুর খুব একটা দ্বিধা হয় না সারাদিন ও সারারাত কাটাতে। অবশ্য না হওয়ার একটা কারণ থাকতেও পারে, তারা পৌঁছেছিল রাতে! বোধহয় ঠিক করে বুঝতে পারেনি জায়গাটা। আর সকালে ্কিছু বোঝার আগেই তো ঘটে গেল সাংঘাতিক এক মৃত্যু! একেবারে জমিদারবাড়ির দোরগোড়ায় প্রায়। ব্যস, পুলিশ এসে তাদের জন্য সেখানে থাকাটা, কিছুদিনের জন্য তো বটেই, পাকাপাকি করে দিল!
তারপর যা হয়, দর্শকরা পাবে অশরীরী, রহস্য, মায় জাতিস্মর সম্বলিত এক রোমাঞ্চকর আবহ, আর আমি পেলাম সঙ্গীতের (বিনীত রঞ্জন মৈত্র) অনবদ্য মূর্ছনা, গতিময় সম্পাদনা (সুমিত চৌধুরি), যা পর্বগুলিকে জমাট রেখেছে ও রহস্যে ঘেরা অতিপ্রাকৃত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ চলচ্চিত্রায়ণের (টুবান) মনকাড়া মায়াবী আমেজ।
তাই একবারের জন্য দেখাটা সার্থক হবে, কিন্তু বাকিটা পুরোটাই আপনাদের মত!

No comments:

Post a Comment